• ভেঙে চুরমার তৃণমূল, তবু শহিদ পত্নীর গলায় নাম একজনেরই
    আজকাল | ২১ জুলাই ২০২৬
  • ইন্দ্রজিৎ সাহু: রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে এবারের ২১ জুলাই ঘিরে তৈরি হয়েছে ভিন্ন রাজনৈতিক সমীকরণ। একদিকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী  মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন শিবির, অন্যদিকে ঋতব্রত ব্যানার্জির নেতৃত্বে ঘোষিত পৃথক কর্মসূচি, দুই শিবিরের পৃথক উদ্যোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চলছে জোর আলোচনা। এই পরিস্থিতিতে কী বলছেন শহিদ  পরিবারের সদস্যরা? উঠে আসছে নানা জনের নানা মন্তব্য।

     ব্যক্তিগত বেদনা ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে এবার ২১ জুলাইয়ের শহিদ তর্পণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারছেন না ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের শহীদ আব্দুল খালেকের স্ত্রী কোহিনুরা বিবি। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুর ব্লকের গরগোজপোতা গ্রামের বাসিন্দা কোহিনুরা বিবি দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতি বছর ২১ জুলাই কলকাতায় গিয়ে স্বামীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। কিন্তু এবার বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা তাঁর সেই দীর্ঘদিনের প্রথায় ছেদ ফেলেছে। তিনি বলেন, 'গত বছরও শরীর ভাল ছিল না। তবুও ছেলের সঙ্গে গিয়েছিলাম। এবার শরীর একেবারেই সঙ্গ দিচ্ছে না। তাই আর যাওয়া হচ্ছে না।'

     ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের সেই ঘটনার কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কোহিনুরা। তাঁর কথায়, স্বামী আব্দুল খালেক যুব কংগ্রেসের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। ২০ জুলাই কেশপুর থেকে রাইটার্স বিল্ডিং অভিযানে যোগ দিতে কলকাতায় গিয়েছিলেন। পরদিন আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর তাঁর মৃত্যু হয়। কোহিনুরা বিবি বলেন, 'ও দলটাকে খুব ভালোবাসত। অনেক অত্যাচার সহ্য করেও দলের কাজ করত। ওর মৃত্যুর পর থেকে প্রতি বছর দিদির ডাকে শহিদ তর্পণে গিয়েছি। এবারই প্রথম শরীরের জন্য যেতে পারছি না।'

     স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি মমতা ব্যানার্জির  প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি পরে রেলমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁদের একমাত্র ছেলে শাহজাহান আলীর ভারতীয় রেলে চাকরির ব্যবস্থাও হয়। তিনি বলেন, 'আমরা সবসময় মমতা  ব্যানার্জির পাশে ছিলাম, এখনও আছি। রাজনীতির এত কিছু বুঝি না, আমি শুধু মমতাদিকেই চিনি।' এদিকে, ২১ জুলাই উপলক্ষে দুই রাজনৈতিক শিবিরের পৃথক কর্মসূচি ঘিরে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নানা আলোচনা থাকলেও, কোহিনুরা বিবির কাছে এই দিনটি শুধুই রাজনৈতিক কর্মসূচি নয় এটি তাঁর শহীদ স্বামীর আত্মত্যাগের স্মৃতিবিজড়িত একটি দিন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি এ বছর কোনও কর্মসূচিতেই উপস্থিত থাকতে পারছেন না। তাঁর কাছে ২১ জুলাই মানে এখনও সেই ১৯৯৩ সালের রক্তাক্ত দিনের স্মৃতি এবং শহীদ স্বামীর প্রতি আজীবনের শ্রদ্ধা। 
  • Link to this news (আজকাল)