• একসঙ্গে সিপিআইএম ও বিজেপি বিধায়ক
    আজকাল | ২১ জুলাই ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক:মুর্শিদাবাদের গোবিন্দপুরে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনার পর এক নজিরবিহীন ও মানবিক দৃশ্যের সাক্ষী থাকল গোটা জেলা। রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে, সব ভেদাভেদ ভুলে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন দুই বিবদমান শিবিরের দুই জনপ্রতিনিধি। শনিবার সকালে বেলডাঙার বিজেপি বিধায়ক ভরত ঝাওর এবং ডোমকলের সিপিআইএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান যেভাবে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির খোঁজ নিলেন, তা দেখে আপ্লুত এলাকার সাধারণ মানুষ। তাদের এই আচরণ মনে করিয়ে দিল যে বিপদের দিনে রাজনীতির চেয়ে মানুষের পাশে থাকাটাই আসল ধর্ম।

    শুক্রবার সকালে কাটোয়া-আজিমগঞ্জ শাখার গোবিন্দপুর এলাকায় রেলগেট পার হওয়ার সময় একটি স্কুলের পুলকারে সজোরে ধাক্কা মারে ট্রেন। চোখের পলকে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় চারজন খুদে পড়ুয়া এবং এক সাইকেল আরোহী। বর্তমানে মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে আরও ৩ পড়ুয়া এবং গাড়িটির চালক। এই ভয়াবহ ঘটনার পর শনিবার সকালে যখন চারদিক কান্নায় ভেঙে পড়েছে, ঠিক তখনই এলাকায় পৌঁছান দুই দলের নেতারা।

    সকালে ডোমকলের সিপিআইএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান ও দলের জেলা সম্পাদক জামির মোল্লা মৃতদের বাড়িতে গিয়ে যখন সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই বেলডাঙার বিজেপি বিধায়ক ভরত ঝাওরও সেখানে আসেন। প্রথমে সিপিআইএম বিধায়ক মৃত পড়ুয়া তামান্নার বাড়িতে ঢুকলে বাইরেই দুই নেতার দেখা হয়ে যায়। কোনওরকম রাজনৈতিক দূরত্ব না রেখে বিজেপি বিধায়ক নিজেই এগিয়ে গিয়ে মোস্তাফিজুর বাবুকে ডেকে নেন এবং একসঙ্গে সবার বাড়ি যাওয়ার প্রস্তাব দেন। এরপর দুই ভিন্ন মেরুর নেতাকে একসঙ্গে শোকার্ত পরিবারগুলোর হাত ধরে পাশে থাকার আশ্বাস দিতে দেখা যায়।

    এই সৌজন্যতা প্রসঙ্গে বিজেপি বিধায়ক ভরত ঝাওর স্পষ্ট জানান যে এমন একটা বড় দুর্ঘটনায় রাজনীতি করার কোনও জায়গাই নেই। তিনি ডোমকলের বিধায়ককে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই একসঙ্গে চলার কথা বলেছিলেন, কারণ এই মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানোটাই একমাত্র লক্ষ্য। অন্যদিকে সিপিআইএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমানও একই সুরে বলেন যে এতদিন হয়তো এই ধরণের রাজনৈতিক সৌজন্যতা কম দেখা যেত, কিন্তু এখন সময় এসেছে তা ফিরিয়ে আনার। মানুষের চরম বিপদে পাশে দাঁড়ানোই একজন জনপ্রতিনিধির আসল দায়িত্ব এবং এখানে রাজনীতির কোনও রং থাকা উচিত নয়। মুর্শিদাবাদের এই দৃশ্য আজ প্রমাণ করল যে রাজনীতির ময়দানে লড়াই থাকলেও, মানুষের কান্নার সামনে সবাই এক।
  • Link to this news (আজকাল)