টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত কলকাতা-সহ শহরতলির একাধিক এলাকা। শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় জল জমে যায়। কলকাতা বিমানবন্দরে চত্বরেও এ দিন জল জমে যাওয়ার কারণে সমস্যায় পড়তে হয় যাত্রীদের। ঝড়-বৃষ্টির কারণে দৃশ্যমানতা কম থাকায় বেশ কয়েকটি বিমান অবতরণে বিলম্ব হয়। এমনকী একটি ফ্লাইটকে কলকাতার বদলে রাঁচিতে অবতরণ করাতে হয়।
বিমানবন্দর সূত্রে খবর, দুপুর ১টা ৩৭ মিনিটে ইন্ডিগোর পাটনা–কলকাতা ফ্লাইট শহরের মাথায় এসে নামতে না পেরে রাঁচি চলে যায়। একই ভাবে ইন্ডিগোরই চেন্নাই–কলকাতা ফ্লাইট ১টা ৪৮–এ, হায়দরাবাদ–কলকাতা ২টো ১৯–এ এবং গুয়াহাটি–কলকাতা ২টো ৫০–এ শহরের আকাশে এসে মুখ ঘুরিয়ে যথাক্রমে ভুবনেশ্বর, রাঁচি, বারাণসী উড়ে যায়। ২টো ৫০ মিনিট নাগাদ এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস ফ্লাইট আগরতলা থেকে এসে ভুবনেশ্বরে চলে যায়। বিমানবন্দর সূত্রের খবর, প্রতিটি ফ্লাইটই ডাইভার্ট করার আগে বেশ কিছুক্ষণ আকাশে চক্কর কেটে কলকাতায় নামার চেষ্টা করে। কলকাতা থেকে প্রায় ১৪টি ডিপারচার ফ্লাইট ছাড়তেও এক ঘণ্টার বেশি করে দেরি হয়ে যায়।
কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট, বিধাননগরের করুণাময়ীতে জল জমে যাওয়ার কারণে যান চলাচল ব্যাহত হয়। বিধাননগর এলাকায় একাধিক গাছ ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। বেশ কিছু রাস্তায় পাম্প চালিয়ে জল নামাতে হয়।
আবহাওয়া দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গের কাছে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ অঞ্চলটি দুর্বল হলেও প্রভাব পুরোপুরি কাটেনি। একই সঙ্গে রাজস্থান, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, ছত্তিসগড় হয়ে পশ্চিমবঙ্গের উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে বর্ষাকালীন অক্ষরেখা। অন্যদিকে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের ঘূর্ণাবর্তটি এখন উত্তর ঝাড়খণ্ড ও সংলগ্ন বিহার -এর উপর অবস্থান করছে। সেই কারণে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প রাজ্যে ঢুকছে। তার জেরেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত থেকে মাঝারি এবং কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে বিমানবন্দর চত্বরে জল জমে যাওয়া এবং দৃশ্যমানতা কম থাকার কারণে সমস্যা তৈরি হয়েছে।
পাটনা-কলকাতা, চেন্নাই-কলকাতা, হায়দরাবাদ-কলকাতা, গুয়াহাটি-কলকাতা এবং আগরতলা থেকে আসা একটি ফ্লাইট যথাক্রমে রাঁচি, ভুবনেশ্বর ও বারাণসীতে ডাইভার্ট হয়েছে।
ভিআইপি রোড, হলদিরাম মোড় ও চিনার পার্কে ব্যাপক জল জমে গিয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের নিম্নচাপ এবং উত্তর ঝাড়খণ্ড-বিহার সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্প ঢোকায় এই বৃষ্টি হচ্ছে।
কলকাতা থেকে প্রায় ১৪টি ডিপারচার ফ্লাইট ছাড়তে এক ঘণ্টার বেশি দেরি হয়েছে।