ভক্তদের জন্য ঢালাও আয়োজন, তারকেশ্বরের পথে কী কী সুবিধা মিলছে? রইল সম্পূর্ণ গাইড
News18 বাংলা | ২০ জুলাই ২০২৬
: শ্রাবণ সোমবার উপলক্ষে এলাহী আয়োজন শিব ভক্তদের জন্য। তারকেশ্বরে জল ঢালতে যাওয়ার পথে যাতে ভক্তদের কোনও সমস্যা না হয়, তার জন্য বিশেষভাবে নজর দেওয়া হয়েছে। পূর্ণ্যার্থীদের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে রাস্তায় তাদের হাতে জল তুলে দেওয়ার জন্য রাখা হয়েছে নানারকম ব্যবস্থা। পথে যাতে কোনও রকম সমস্যায় পড়তে না হয় বা রাস্তা চিনতে অসুবিধা না হয়, তার জন্য রাখা হয়েছে সহায়তা কেন্দ্র।
শেওড়াফুলি স্টেশন থেকে শুরু করে তারকেশ্বর স্টেশন পর্যন্ত গোটা এলাকা যেন উৎসবের মেজাজে সেজে উঠেছে। শ্রাবণী মেলা উপলক্ষে বিরাট আয়োজন করা হয়েছে তারকেশ্বরে। শ্রাবণ মাসের প্রত্যেক সোমবারে বহু পুণ্যার্থী বাবা তারকনাথের মাথায় জল ঢালতে যান। সেই কথা মাথায় রেখেই বিশেষভাবে আয়োজন করা হয়েছে। তারকেশ্বর স্টেশনের বাইরে রাখা হয়েছে সহায়তা কেন্দ্র। এছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মোড়ে প্রচুর পরিমাণে পুলিশ কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে। মন্দিরে পুজো দিতে যাতে অসুবিধা না হয়, সেজন্য শৃঙ্খলাবদ্ধ ভাবে লাইন দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পুরুষ এবং মহিলা পুণ্যার্থীদের জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা লাইন। দুধপুকুরের সামনে সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে। গোটা এলাকা চত্বর আলোয় সেজে উঠেছে। সর্বক্ষণ নজরদারি চালাচ্ছে প্রশাসন। গোটা শ্রাবণ মাস জুড়েই ভক্তদের সুবিধার্থে এই ব্যবস্থা থাকবে বলে খবর।
অন্যদিকে শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর যাওয়ার রাস্তায় বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় প্যান্ডেল করা হয়েছে। ভক্তরা কাঁধে বাঁধ নিয়ে যাওয়ার সময় এই সমস্ত জায়গায় বসে কিছুক্ষণ বিশ্রাম করতে পারবেন। সেখানে তাদের জন্য পানীয় জল সহ অন্যান্য ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। অন্যদিকে মন্দির চত্বরে রাখা হয়েছে জলছত্র রয়েছে পুলিশি সহায়তা কেন্দ্র। কোন পূর্ণার্থী সমস্যায় পড়লে এই জায়গা থেকে তৎক্ষণাৎ সাহায্য নিতে পারবেন এছাড়াও ফাস্টেড সেন্টার রাখা হয়েছে মন্দির চত্বরে।
অন্যদিকে, চলতি বছরে মন্দির চত্বরে দুধপুকুরে বিশেষ লেজার শো- এর আয়োজন করা হয়েছে। সন্ধ্যেবেলায় ভগবান শিবের তাণ্ডব নৃত্যের আদলে কয়েক মিনিটের এই লেজার শো ভক্তদের মুগ্ধ করছে। এছাড়াও শ্রাবণ সোমবারে হেলিকপ্টার থেকে ভক্তদের ওপর পুষ্প বৃষ্টি করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। সবমিলিয়ে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর শ্রাবণী মেলা আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে বলেই মন্তব্য ভক্তদের একটা বড় অংশের। এদিন সকাল থেকে মন্দিরে ভক্তদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সবমিলিয়ে প্রশাসনের আয়োজন এবং ভক্তদের আবেগ মন্দিরে এক অপূর্ব পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।