চলছিল বিয়ের অনুষ্ঠান! হঠাৎ বিয়ের আসর ছেড়ে কয়েকজন বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে নিয়ে সড়কপথে চলে আসেন পাত্র। রাস্তায় বাইকচালকদের উপর লক্ষ্য রেখে যখন দেখেন বাইক আরোহীদের কেউ কেউ খালি মাথায় বাইক চালিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের হাত তুলে দাঁড় করালেন। তারপর কাছে গিয়ে বিনীতভাবে বললেন, ”ভাই হেলমেট তো আমাদের দুর্ঘটনার সময় প্রাণরক্ষা করতে সাহায্য করে। তুমি হেলমেট ছাড়া বাইক চালাচ্ছো-এটা কি ঠিক করছো?” বাইক আরোহী কিছুটা লজ্জা পেয়ে নিজের ভুল স্বীকার করলেন। সঙ্গে সঙ্গে বরের বেশে ওই যুবক বললেন, “ঠিক আছে। এরপর ভুল কোরো না। আজ আমার বিয়ে। আমার তরফ থেকে তোমাকে একটা হেলমেট উপহার দিলাম। এটা এখনই মাথায় পরে নাও।”
হেলমেটবিহীন বাইক চালকদের সতর্ক করতে নিজের বিয়ের দিনে এমনই অভিনব উদ্যোগ নিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতার থানার এরুয়ার গ্রামের বাসিন্দা তানবীর আনসারি। এদিন রবিবার মঙ্গলকোটের নতুনহাটে একটি লজে তানবীরের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। তখনই দেখা যায় বিয়ের অনুষ্ঠানের ফাঁকে তানবীর বোলপুর -নতুনহাট সড়কপথের উপর এসে দাঁড়িয়েছেন। সঙ্গে বেশকিছু নতুন হেলমেট। হেলমেটবিহীন বাইক চালকদের দেখতে পেলেই তাঁদের দাঁড় করিয়ে তুলে দিচ্ছেন নতুন হেলমেট। সচেতন করছেন বাইক চালকদের। তানবীর আনসারির কথায়,” আমার বাবা মা শিক্ষা দিয়েছেন সমাজের মানুষের জন্য ভালো করতে। সবার উপকার করতে। আমার সামান্য প্রচেষ্টায় যদি অন্যকারও উপকার হয় সেটাই আমার কাছে বড় পাওনা। আমি নিজে হেলমেট ছাড়া কখনও বাইক চালাই না।”
কৃষক পরিবারের সন্তান তানবীর আনসারি পেশায় ব্যবসায়ী। মঙ্গলকোটের পালিশগ্রামের বাসিন্দা প্রিয়া খাতুনের সঙ্গে দেখাশোনা করে তাঁর বিয়ে হচ্ছে। এদিন রবিবার নতুনহাটে একটি লজে বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। দুই পক্ষের আত্মীয়রাও এসেছিলেন। ছিলেন তানবীরের বন্ধুবান্ধবরা। দেখা যায় অনুষ্ঠানের ফাঁকে তিনি রাস্তায় এসে হেলমেটবিহীন বাইক চালকদের সচেতন করছেন। পাশাপাশি তাঁদের হাতে তুলে দিচ্ছেন নতুন হেলমেট। উল্লেখ্য, বর্তমানে চলছে অরণ্য সপ্তাহ। বিয়ে উপলক্ষ্যে গ্রামে বনসৃজনের উদ্যোগ নিয়েছেন এই যুবক। শনিবার থেকে এদিন পর্যন্ত একশোর বেশি বৃক্ষচারা রোপন করেছেন। তানবীর জানিয়েছেন ওই বৃক্ষচারাগুলি বড় না হওয়া পর্যন্ত যথাযথ দেখভাল করার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।