দইয়ের পর আমূলের ২ আইসক্রিম কারখানা? শাহকে যা বললেন শুভেন্দু
আজ তক | ২০ জুলাই ২০২৬
এদিন শুভেন্দু বলেন, দইয়ের পর উত্তর এবং দক্ষিণবঙ্গে একটি করে আইসক্রিম উৎপাদন কেন্দ্র তৈরি হোক। এটি হলে দুগ্ধ উৎপাদকরা লাভবান হবেন। কর্মসংস্থান ও রাজ্যের অর্থনীতিও উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হবে।
শনিবার হাওড়ার সাঁকরাইলে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে আমূলের নতুন প্ল্যান্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন অমিত শাহ। এই প্রকল্পে মূলত দই উৎপাদন করা হবে। উদ্যোক্তাদের দাবি, উৎপাদন ক্ষমতার নিরিখে এটি বিশ্বের বৃহত্তম বড় দই উৎপাদন কেন্দ্র হতে চলেছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, সমবায় আন্দোলন ছাড়া ভারতের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব নয়। তাঁর মতে, কৃষক ও মহিলাদের আর্থিক ক্ষমতায়নে সমবায় ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পৃথক সমবায় মন্ত্রক গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাঁকে ধন্যবাদ জানান খ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দুর দাবি, গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীনই নরেন্দ্র মোদী উপলব্ধি করেছিলেন যে সমবায় মডেল দেশের অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।
এর পরেই অমিত শাহকে উদ্দেশ করে শুভেন্দু বলেন, 'আজ পশ্চিমবঙ্গের মিষ্টি দই শুধু বাংলায় নয়, গোটা ভারতে পৌঁছবে। এটি গর্বের বিষয়। আমি অমিত শাহজিকে অনুরোধ করব, উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গে একটি করে আইসক্রিম কারখানা গড়ে দিন।'
তিনি আরও দাবি করেন, ২০২০ সালেই কেন্দ্রীয় সরকার এই ধরনের প্রকল্প নিয়ে রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়েছিল, কিন্তু তৎকালীন রাজ্য সরকার সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। শুভেন্দুর আশ্বাস, ভবিষ্যতে সরকার পরিবর্তন হলে প্রয়োজনীয় ১৫ একর করে জমির ব্যবস্থা করা হবে, যাতে আমূল সহজেই নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারে।
খ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, নতুন আইসক্রিম কারখানা গড়ে উঠলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন রাজ্যের দুগ্ধচাষিরা। তাঁদের উৎপাদিত দুধের চাহিদা বাড়বে এবং ন্যায্য দামও মিলবে। পাশাপাশি কারখানাকে কেন্দ্র করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে। শুধু কারখানার কর্মীই নয়, পরিবহণ, হকার, বিক্রেতা, সরবরাহকারী-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেও কাজের সুযোগ তৈরি হবে বলে দাবি করেন তিনি।
শুভেন্দুর কথায়, 'শুধু আইসক্রিম নয়, ভবিষ্যতে বাটার-সহ অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্যও পশ্চিমবঙ্গে তৈরি হতে পারে। গুজরাতে আমূল যেভাবে শিল্প ও সমবায়ের মডেল গড়ে তুলেছে, সেই একই ছবি পশ্চিমবঙ্গেও দেখা যেতে পারে।'
রাজ্যের অর্থনীতি নিয়েও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, গত দুই সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি দুর্বল হয়েছে। আমূলের মতো বৃহৎ বিনিয়োগ এলে রাজ্যের রাজস্ব আয় বাড়বে, জিএসটি সংগ্রহও বৃদ্ধি পাবে। সেই সঙ্গে কৃষিভিত্তিক শিল্পের প্রসার ঘটবে।
রাজনৈতিক বার্তাও দিতে ভোলেননি শুভেন্দু। বিগত সরকারকে নিশানা করে তিনি বলেন, 'একসময় বলা হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গকে গুজরাত হতে দেওয়া হবে না। কিন্তু আজ বাস্তব হল, গুজরাতের সমবায় সংস্থা আমূল পশ্চিমবঙ্গে ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। এখানকার মিষ্টি দই এখন দেশের নানা প্রান্তে পৌঁছে যাবে।'