• বড় ঘোষণা! বাংলায় আরও বিনিয়োগ করতে চলেছে আমূল?
    আজকাল | ২০ জুলাই ২০২৬
  • বিউ সরকার

    হাওড়ায় আমূলের ৭০০ কোটি টাকার ডেয়ারি ফ্যাক্টরির ভূমিপুজো অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সমবায় আন্দোলন, কৃষকদের উন্নয়ন এবং পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের ওপর জোর দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

    অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী কৃষক ও দুগ্ধ উৎপাদকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, দেশের সমবায় আন্দোলনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর কথায়, ‘সমবায় বিপ্লব ছাড়া দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করা সম্ভব হতো না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো পৃথক সমবায় মন্ত্রক গঠন হয়েছে, যা বিকল্প অর্থনীতির শক্ত ভিত তৈরি করেছে।’

    তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গে আমূলের এই ৭০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ রাজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার দুগ্ধ উৎপাদক কৃষক এবং ৩০ হাজার মহিলা এই সমবায় ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে তাঁদের আয় আরও বাড়বে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।

    শুভেন্দুর দাবি, পূর্ববর্তী রাজ্য সরকারকে আমূল বহুবার প্রকল্পের জন্য আবেদন করলেও কোনও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। কিন্তু বর্তমান সরকার সংস্থার জন্য ১৫ একর জমি বরাদ্দ করেছে। তাঁর মতে, এই প্রকল্প চালু হলে শুধু দুধ উৎপাদক কৃষকরাই নন, হকার, পরিবহণ ব্যবস্থা এবং রাজ্যের রাজস্ব—সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। জিএসটি আদায়ও বাড়বে।

    এদিন মুখ্যমন্ত্রী আমূল কর্তৃপক্ষের কাছে দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গে দুটি আইসক্রিম কারখানা গড়ে তোলার আবেদন জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাটার-সহ অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্যের উৎপাদন কেন্দ্রও পশ্চিমবঙ্গে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। শুভেন্দুর কথায়, ‘যাঁরা বলতেন পশ্চিমবঙ্গকে গুজরাট হতে দেব না, তাঁরাই আজ দেখছেন গুজরাটের আমূল পশ্চিমবঙ্গে ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। এটাই ডবল ইঞ্জিন সরকারের পশ্চিমবঙ্গ।’

    অন্যদিকে, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, পশ্চিমবঙ্গে একটি নতুন যুগের সূচনা হচ্ছে। তাঁর দাবি, এই উন্নয়ন কোনও রাজনৈতিক দলের নয়, গোটা রাজ্যের মানুষের। তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে শিল্প হবে, বিনিয়োগ হবে। আগামী ৮ থেকে ১০ মাসের মধ্যে রাজ্যকে নতুনভাবে চিনবে দেশ। কোনও বিনিয়োগ আর অন্য রাজ্যে চলে যাবে না।’

    শমীকের মতে, শিল্পায়নের ফলে বহু পরিযায়ী শ্রমিক রাজ্যে ফিরে এসে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন। তিনি বলেন, আমূল যেভাবে একটি ছোট সমবায় উদ্যোগ থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ দুগ্ধ সংস্থায় পরিণত হয়েছে, সেই মডেল পশ্চিমবঙ্গের কাছেও অনুপ্রেরণা হতে পারে।

    তিনি আরও আহ্বান জানান, শুধু আমূল নয়, দেশের অন্যান্য শিল্পগোষ্ঠীকেও পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের জন্য এগিয়ে আসতে হবে। তাঁর বক্তব্য, আগামী দিনে রাজ্যে শিল্পের জোয়ার আসবে এবং ‘সোনার বাংলা’ শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বাস্তব রূপ পাবে।
  • Link to this news (আজকাল)