চাকরি আর মাত্র বাকি ১ মাস। আগস্টে শেষ হবে মেয়াদ! অবসাদে ভুগছিলেন শিক্ষিকা। বৃহস্পতিবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। পুরুলিয়া গভর্মেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। শনিবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে তাঁর। যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ দাবি করেছে, অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের ওষুধ সেবন করে আত্মঘাতী হয়েছেন তিনি। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট আসার পর মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মৃত শিক্ষিকার নাম ঈপ্সিতা দাস মহাপাত্র। বয়স ৩৪ বছর। তিনি পুরুলিয়া ২ নম্বর ব্লকের গোলামারা উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বাংলা শিক্ষিকা ছিলেন। ২০১৬ সালে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ২০১৯ সালে চাকরি পান ঈপ্সিতা। প্যানেল বাতিল হওয়ার পর ২০২৫ সালে তিনি পরীক্ষাও দেন। কিন্তু মেধা তালিকায় নাম ওঠেনি। পরিবারের দাবি, প্যানেল বাতিলের পর চিন্তা তো ছিলই। মেধা তালিকায় নাম না ওঠায় তিনি অবসাদে ভুগতে শুরু করেন।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৪ সাল থেকে ডায়াবেটিস ছিল ঈপ্সিতা। চলত ওষুধ। চাকরি নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হওয়ার পর সেই ওষুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধজুড়ে যায়। ১৫ জুলাই রাতে ওষুধ খেয়ে ঘুমাতে যান। ১৬ তারিখ সকাল থেকে অসুস্থ বোধ করেন। হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দু’দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার সকাল ৯টা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়। মৃতার বাবা অজিত দাস মহাপাত্র জানান, “মেয়ে অত্যন্ত মেধাবী ছিল। ২০১৬ সালে পরীক্ষা দেওয়ার পর ২০১৯ সালে চাকরি পায়। পরবর্তী সময় সেই তালিকা বাতিল হয়। ২০২৫ সালে পরীক্ষা দিলেও মেধাতালিকায় নাম ওঠেনি। তখন থেকেই মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিল।”
এই মৃত্যুর পর যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ প্রেস বিবৃতি দিয়েছে। তারা জানিয়েছেন, ‘২৬ হাজার শিক্ষক- শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলের জেরে আমাদের আরও এক সহযোদ্ধা শিক্ষিকার মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। দীর্ঘদিন ধরে চাকরি হারানোর আশঙ্কা। ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা। এবং অসহনীয় মানসিক চাপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের ওষুধ সেবন করেন। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।’