পশ্চিমবঙ্গে পা রেখেই সীমান্ত সুরক্ষা পর্যালোচনা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শিলিগুড়িতে বিএসএফের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নানা বিষয় নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করেন শাহ। একইসঙ্গে বিএসএফের জন্য মোট ৭৭ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, উত্তরবঙ্গের মন্ত্রী, সাংসদ এবং বিধায়করা। চিকেনস নেকের নিরাপত্তা নিয়ে যাতে কোনও খামতি না থাকে সেই বার্তা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলে সূত্রের খবর।
এদিকে শনিবার রাজগঞ্জ ব্লকের জুম্মা গছ সীমান্ত পরিদর্শন করেন অমিত শাহ। সীমান্তে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা এবং মহানন্দা নদীর উন্মুক্ত পথে অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেন তিনি৷ সীমান্ত এলাকায় নিজে বৃক্ষরোপন করেন শাহ। বিএসএফ অফিসার এবং কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। রাজ্যে বিজেপি সরকার গড়ে ওঠার পর প্রথমবার উত্তরবঙ্গ সফরে এসে সীমান্ত নিরাপত্তায় সবচেয়ে গুরুত্ব দিলেন অমিত শাহ। ওপারে বাংলাদেশের চ্যাংরাবান্ধা স্থলবন্দর ও সীমান্ত চৌকি। সেটি বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায় অবস্থিত একমাত্র স্থলবন্দর। ওই বন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ভারত ছাড়াও ভুটান এবং নেপালের সঙ্গে বাণিজ্য করে থাকে। শিলিগুড়িতে বিএসএফের ‘প্রহরী সম্মেলনে’ যোগ দিয়ে উত্তরবঙ্গে বিশেষ করে চিকেনস নেকের নিরাপত্তা নিয়ে ম্যারাথন বৈঠক করেন।
অন্যদিকে দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এই চিকেনস নেকের নিরাপত্তার উপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। এতদিন চিকেনস নেকের অদূরে অবস্থিত চিন সীমান্ত ছিল নজরদারির কেন্দ্রবিন্দুতে। এবার তাতে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ এবং ভুটান সীমান্তও। এমনকী নেপালকেও। উত্তরকন্যায় যে বৈঠক হয়েছে, তাতে আলোচনার মূল বিষয় ছিল সীমান্তে নজরদারি এবং সুরক্ষা বলে সূত্রের খবর। উত্তরকন্যার পাশে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখেন শাহ। কাঁটাতার লাগোয়া জামুড়িয়া ভিটা, সন্ন্যাসীকাঁটা এলাকাও পরিদর্শন করেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তাছাড়া নদীপথে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালানের মতো ঘটনাও আগে ঘটেছে বলে অভিযোগ। সীমান্তের কয়েক কিমি এলাকা এখন বিএসএফ এবং পুলিশের যৌথ নজরদারিতে রয়েছে। উত্তরবঙ্গের সীমান্ত এলাকায় ত্রিস্তরীয় ফেন্সিং নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন অমিত শাহ। রাজ্যে মোট ১০টি নতুন বর্ডার আউটপোস্ট উদ্বোধনের ঘোষণা করা হয়েছে। তার মধ্যে উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারে দুটি বিওপি তৈরি হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের। অসম মেঘালয় মিজোরাম এবং ত্রিপুরার সঙ্গে পড়শি দেশের সীমান্ত রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তের প্রায় ৫০০ কিলোমিটার এলাকায় এখনও কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া বাকি আছে। তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।