বাড়ির সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন এলাকার বিধায়ক৷ তাঁকে দেখতে বাড়ির সদর দরজায় দাঁড়িয়েছিলেন এক বৃদ্ধ৷ যাঁর পরিচয় তিনি রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামা৷
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মামা তাঁকে দেখার জন্য দাঁড়িয়ে আছেন, একথা শুনেই অবশ্য এগিয়ে এলেন রামপুরহাটের বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামা অনিল মুখোপাধ্যায়ের পায়ে হাত দিয়ে প্রণামও করেন তিনি৷ শনিবার দুপুরে এমনই রাজনৈতিক সৌজন্যের সাক্ষী থাকল রামপুরহাটের কুশুম্বা গ্রাম৷
শনিবার কুশুম্বা গ্রামে একটি অনুষ্ঠানে এসেছিলেন রামপুরহাটের বিজেপি বিধায়ক৷ সেই সময় বাড়ির সদর দরজায় দাঁড়িয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামা অনিল মুখোপাধ্যায়৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামাকে দেখতে পেয়েই তাঁর দিকে এগিয়ে আসেন বিজেপি বিধায়ক৷ ধ্রুব সাহা বলেন, ‘আমি তো এদিক দিয়ে বার বার যাই আপনার সঙ্গে দেখা হয় না৷’ তিনি আরও জানতে চান, ‘কেমন আছেন? শরীর ভাল আছো তো, কী অসুবিধা হচ্ছে?’
অনিলবাবু তখন বিজেপি বিধায়ককে বলেন, ‘চোখে দেখতে সমস্যা হয়, কানেও ভাল শুনি না৷’ বিজেপি বিধায়ক তখন বলেন, ‘ভগবানের নাম করুন, দেখবেন শান্তিতে থাকবেন৷’ যাওয়ার সময় বিজেপি বিধায়ক অনিলবাবুকে বলেন, ‘ভাল থাকবেন৷’ পাল্টা অনিলবাবুও বলেন, ‘আবার আসবেন৷’
পরে অনিলবাবু বলেন, ‘ওনার নাম শুনেছিলাম, কিন্তু সেভাবে চিনতাম না৷ আজকে ভাল ভাবে পরিচয় হল৷ ওনার ব্যবহার ভাল লাগল৷ বললাম ভাল থাকবেন৷’
১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর বিধানসভা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন তাঁর ভাগ্নি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস৷ যদিও রাজনীতির এই সমীকরণ নিয়ে বিশেষ বিচলিত নন অনিল বাবু৷ তাঁর স্পষ্ট কথা, ‘মানুষ ভোট দেয়নি, হেরে গিয়েছে৷ এরা ভাল ভাবে পাঁচ বছর চালাক৷ ভাল কাজ করলে মানুষ এদের আবার ক্ষমতায় আনবে৷’
তৃণমূলে বিদ্রোহ নিয়েও বিশেষ কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি অনিলবাবু৷ সম্পর্কে নাতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যে ক্ষোভ প্রকাশ্যে এসেছে তা নিয়ে অনিলবাবুর প্রতিক্রিয়া, ‘সবই শুনছি, দেখছি৷ আমাদের কিছু বলার নেই৷ কে দায়ী, কে ভুল করেছে আমি বলতে পারছি না৷’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর কোনওদিন ক্ষমতায় ফিরবেন কি না প্রশ্ন করায় অনিলবাবুর জবাব, ‘মানুষ ভোট দিলে আবার নিশ্চয়ই মুখ্যমন্ত্রী হবে৷ জনগণ যদি চায়৷’