স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ঐতিহ্যবাহী শোলা শিল্পকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে আরও পরিচিত করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোটের বনকাপাসী গ্রামে শুরু হতে চলেছে নাবার্ডের উদ্যোগে বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবির। সম্প্রতি প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণ শিবিরের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন এলাকার বিধায়ক শিশির ঘোষ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত শোলা শিল্পী আশিষ মালাকার, স্থানীয় শিল্পী, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যারা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শোলা শিল্পের বর্তমান সম্ভাবনা, আধুনিক বাজারের চাহিদা এবং এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে কীভাবে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা যায়, সেই বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রশিক্ষকরা জানান, খুব শীঘ্রই হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মহিলাদের আধুনিক নকশায় শোলার সামগ্রী তৈরি, উন্নত মানের উৎপাদন, প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং, বিপণন কৌশল এবং অনলাইন ও অফলাইন বাজারে পণ্য বিক্রির বিভিন্ন দিক শেখানো হবে।
তাঁদের বক্তব্য, শুধুমাত্র ঐতিহ্য ধরে রাখাই নয়, নতুন প্রজন্মের চাহিদা অনুযায়ী শোলা শিল্পকে আরও আধুনিক ও বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক করে তুলতে এই প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এর ফলে শিল্পীরা যেমন নতুন দক্ষতা অর্জন করবেন, তেমনই তাঁদের আয়ের নতুন পথও খুলে যাবে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁরা নতুন ধরনের শোলা সামগ্রী তৈরি করে বৃহত্তর বাজারে পৌঁছতে চান। এতে তাঁদের আর্থিক স্বনির্ভরতা আরও বাড়বে বলে আশাবাদী তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দা তথা শোলা শিল্পী মিহির ঘোষ জানান, বনকাপাসীর শোলা শিল্পের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য রয়েছে। নাবার্ডের এই উদ্যোগ শিল্পীদের নতুন প্রযুক্তি ও বাজারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে। তাঁর মতে, এই প্রশিক্ষণ শিবির শুধু শোলা শিল্পের প্রসারই ঘটাবে না, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এর ফলে বাজার বনকাপাসীর শোলা শিল্প নতুন দিশা পাবে এবং জাতীয়-আন্তর্জাতিক স্তরেও আরও পরিচিতি লাভ করবে।