দাদুর স্বপ্নই ছিল “আমার নাতনি একদিন ডাক্তার হবে।” কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার দিনটি দেখে যেতে পারলেন না তিনি। চিত্তরঞ্জন সাহু, বাঁকুড়ার গোড়াবাড়ি হাই স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক, আজ আর নেই। তবে তাঁর বহুদিনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিলেন নাতনি ঐন্দ্রিলা সাহু। NEET (UG) ২০২৬ পরীক্ষায় ৬৫৬ নম্বর পেয়ে অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক ১০৪৬ অর্জন করে চিকিৎসক হওয়ার পথে বড় পদক্ষেপ নিলেন তিনি। ফল প্রকাশের পর দাদুর কথা স্মরণ করতে করতেই চোখে জল দিদা গৌরী সাহুর।
মুকুটমনিপুরের গোড়াবাড়ির বাসিন্দা ঐন্দ্রিলা ছোট থেকেই পড়াশোনায় অসাধারণ মেধার পরিচয় দিয়েছেন। ২০২২ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৬৮০ নম্বর পান। এরপর উচ্চমাধ্যমিকে ৪৮৪ নম্বর পেয়ে নিজের সাফল্যের ধারা বজায় রাখেন। এরপর বাঁকুড়া এসে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থেকে, কঠোর পরিশ্রম, নিয়মিত পড়াশোনা এবং চিকিৎসক হওয়ার অদম্য ইচ্ছাই তাঁকে এনে দিয়েছে এই অসামান্য সাফল্য। তাঁর বাবা অভিজিৎ সাহু, মা গায়ত্রী সাহু এবং ভাই ঋদ্ধিমান সাহু সবসময় তাঁর পাশে থেকেছেন।
চিত্তরঞ্জন সাহু ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক। গোড়াবাড়ি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে বহু ছাত্রছাত্রীকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল, নাতনি একদিন সাদা অ্যাপ্রোন পরে মানুষের সেবা করবে। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হলেও, সেই আনন্দ নিজের চোখে দেখে যেতে পারলেন না তিনি। তাই বাড়িতে খুশির আবহের পাশাপাশি রয়েছে আবেগের ছোঁয়া। দিদা গৌরী সাহু বারবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।
ঐন্দ্রিলা সাহুর এই সাফল্যে শুধু তাঁর পরিবার নয়, গর্বিত গোটা গোড়াবাড়ি, মুকুটমনিপুর এবং বাঁকুড়া জেলা। দেশের অন্যতম কঠিন প্রবেশিকা পরীক্ষায় দুর্দান্ত ফল করে তিনি প্রমাণ করেছেন, অধ্যবসায়, নিষ্ঠা এবং পরিবারের আশীর্বাদ থাকলে স্বপ্ন একদিন বাস্তব হয়ই। দাদুর অপূর্ণ ইচ্ছাকে পূর্ণ করে আজ ঐন্দ্রিলা শুধু নিজের পরিবারের নয়, সমগ্র এলাকার গর্ব এবং আগামী প্রজন্মের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন।