• মুর্শিদাবাদে পুলকার দুর্ঘটনায় প্রকাশ্যে আরও তথ্য!
    আজকাল | ১৯ জুলাই ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: বহরমপুর থানার অন্তর্গত কর্ণসুবর্ণ রেলগেটে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক পুলকার দুর্ঘটনার ২৪ ঘন্টা পর প্রকাশ্যে এল গেটম্যানের গাফিলতির আরও তথ্য। নন-ইন্টারলকিং রেলগেটে ভুলবশত গেট তুলে দেওয়ার জেরেই প্রাণ গিয়েছে এক সাইকেল আরোহী সহ রয়্যাল অ্যাকাডেমি স্কুলের চার ছাত্রছাত্রীর।

    তদন্তকারীদের অনুমান গেটটি ইন্টারলকিং হলে স্টেশনমাস্টারের কাছে গেটটি খোলা ও বন্ধ করার ক্ষমতা থাকত। সেক্ষেত্রে এত বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল। পুলিশ ও রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকাল ৬:৪৫ নাগাদ আপ ‘থ্রু’ হাওড়া-বালুরঘাট এক্সপ্রেস কর্ণসুবর্ণ স্টেশন পার করার পরই দায়িত্বপ্রাপ্ত গেটম্যান ভুলবশত রেলগেট তুলে দেন।

    সেই সময় একটি ছাত্র বোঝাই পুলকার লাইন পার হচ্ছিল। পুলকারটি লাইনে ঢুকে পড়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই উল্টো দিক থেকে তীব্র গতিতে চলে আসে ডাউন কাটোয়া-নিমতিতা লোকাল।

    নিজের ভুল বুঝতে পেরে গেটম্যান তড়িঘড়ি উল্টো দিকের গেটও নামিয়ে দেন। ফলে মাঝখানে আটকে পড়া পুলকার সামনে বা পিছনে কোনও দিকেই যাওয়ার সুযোগ পায়নি।

    এরপরই লোকাল ট্রেনটি সজোরে ধাক্কা মারে পুলকারটিকে। ধাক্কার জেরে দুমড়ে-মুচড়ে যায় গাড়িটি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তিনজন স্কুল ছাত্রের। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাকি ছাত্র ছাত্রী, পুলকারে ড্রাইভার ও সাইকেল আরোহীকে কর্ণসুবর্ণ  প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং পরে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে আহত ওই সাইকেল আরোহী এবং আরও এক ছাত্রের মৃত্যু হয়।

    দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত গেটম্যানের উপর চড়াও হয়। বহরমপুর থানার পুলিশ ও রেল পুলিশ আসার আগেই তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গণপিটুনিতে গেটম্যানের পা ভেঙে যায়। বর্তমানে তিনি মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পরই বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল থেকে গেটম্যান নেশাগ্রস্ত ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।

    তবে মেডিক্যাল টেস্টে তা প্রমাণিত হয়নি। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, গেটম্যানের গাফিলতির জন্যই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আজিমগঞ্জ জিআরপি থানায় বিএনএস-এর ১০৫ ধারা সহ আরও একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    ধৃত গেটম্যানের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলে তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে। তবে তদন্তকারীদের একটি সূত্রের দাবি, ‘থ্রু’ ট্রেনটি যাওয়ার কারণে ওই রেল গেটটি দীর্ঘক্ষণ বন্ধ ছিল।

    এই কারণে পরবর্তী ট্রেন আসার আগে বেশ কিছু মানুষ ওই গেটম্যানকে রেল গেটটি খোলার জন্য ‘চাপ’ দিয়েছিলেন। যদিও দুর্ঘটনার পর তাঁদের আর দেখা মেলেনি। যদিও রেল কর্তৃপক্ষের দাবি কোনও ‘চাপের’ কারণে যদি ওই গেটম্যান সেটি খুলে থাকেন, তিনি রেলের আইন ভেঙে সেটা করেছিলেন।

    তদন্তে আরও উঠে আসে, কিছুদিন আগেই কর্ণসুবর্ণ রেল গেটে একটি টোটো ধাক্কা মারায় তার ক্ষতি হয়। এই কারণে রেল কর্তৃপক্ষ টোটোচালককে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা জরিমানা করেছিল।

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার কিছু বাসিন্দাদের মধ্যে রেল কর্মচারীদের ওপর ক্ষোভ ছিল। ট্রেনের ধাক্কায় ছাত্রছাত্রীদের মৃত্যুর পর পুঞ্জীভূত ক্ষোভ শুক্রবার বড় আকার ধারণ করে।

    বহরমপুর থানার এক আধিকারিক জানান, যে এলাকায় দুর্ঘটনা হয়েছে সেটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ অধ্যুষিত। তৃণমূলের জমানায় এই দুর্ঘটনা হলে রেলের প্রচুর সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা ছিল।

    কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুলিশকে কঠোর হাতে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করার নির্দেশ দেওয়ায় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা হয়নি। এই দুর্ঘটনায় রেলের আর কোনও কর্মচারীর গাফিলতি ছিল কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
  • Link to this news (আজকাল)