• পুরোনো মামলায় জেলও খাটে, রাজারহাটে বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেপ্তার মূল অভিযুক্ত, কে এই শামিম?
    এই সময় | ১৯ জুলাই ২০২৬
  • রাজারহাটের দক্ষিণ নারায়ণপুরের সুপুরিবাগান এলাকায় একটি বাড়িতে শুক্রবার রাতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। সেই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মহম্মদ শামিম ওরফে সেলিম গ্রেপ্তার। শনিবার রাতে কামারহাটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে বিধাননগর পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল। পুলিশ সূত্রে খবর, শামিমের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে এনডিপিএসের কেস ছিল। গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বছর তিনেক জেলও খাটে শামিম।

    শনিবার সকালেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। কী ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছিল, কেন এত পরিমাণ বিস্ফোরক সেখানে মজুত রাখা হয়েছিল এবং এর পিছনে কোনও বড় নাশকতার ছক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিস্ফোরণের পর সিআইডি যে বিস্ফোরক সামগ্রী উদ্ধার করেছে, সেগুলিও ফরেন্সিক পরীক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে।

    তদন্তে উঠে এসেছে, বাড়িটি ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে ভুয়ো পরিচয়পত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। বাড়ির মালিক জুলফিকার আনসারি এবং বাড়ি ভাড়া দেওয়ার মধ্যস্থতাকারী শাহেনশাহকেও জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা। মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশনের সূত্র ধরেই কামারহাটি থেকে শামিমকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। শামিম কামারহাটি ম্যাকানজি রোড এলাকার বাসিন্দা বলে জানা যায়।

    এলাকার বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনতলা ওই বাড়িতে কারা থাকতেন, কারা যাতায়াত করতেন এবং বিস্ফোরণের সঙ্গে আরও কেউ বা কারা যুক্ত থাকতে পারেন, সেই সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের অনুমান, শামিম একা নয়, এর পিছনে আরও বড় কোন চক্র কাজ করে থাকতে পারে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৫ জুলাই বাড়িটি ভাড়া নেওয়ার জন্য শামিম যোগাযোগ করেছিলেন। কয়েক দিন আগে কামারহাটি থেকে এসে তিনি ওই বাড়িতে ওঠেন। কেন তিনি ওই এলাকা বেছে নিয়েছিলেন এবং কী উদ্দেশ্য নিয়ে সেখানে বিস্ফোরক মজুত করা হয়েছিল, তা এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের নিউটাউন জোনের ডিসি জ্যোতির্ময় রায় জানান, মূল অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার গভীরে পৌঁছনোর চেষ্টা করা হবে। আটক ব্যক্তিদের মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদেরও পরিকল্পনা রয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, নাবালকদের ব্যবহার করে কীভাবে বিস্ফোরক আনা-নেওয়া করা হচ্ছিল এবং এর সঙ্গে কোনও বড় চক্র জড়িত রয়েছে কি না।

    মহম্মদ শামিম ওরফে সেলিম, যিনি শনিবার রাতে কামারহাটি থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

    রাজারহাটের দক্ষিণ নারায়ণপুরের সুপুরিবাগান এলাকার একটি বাড়িতে।

    জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) এবং বিধাননগর পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল যুক্ত রয়েছে তদন্তে।

    তদন্তে উঠে এসেছে, বাড়িটি ভাড়া নেওয়ার সময় ভুয়ো পরিচয়পত্র ব্যবহার করা হয়েছিল।

    ২০১৮ সালে তাঁর বিরুদ্ধে এনডিপিএস আইনে মামলা ছিল এবং তিনি বছর তিনেক জেল খেটেছেন।

  • Link to this news (এই সময়)