কলকাতা, ১৮ জুলাই: নোটিস আগেই দেওয়া হয়েছিল। অবশেষে বুলডোজার চলল ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমতলার ‘কার্যালয়ে’। পাঁচতলা এই বহুতলকে ইতিমধ্যে ‘বেআইনি’ ঘোষণা করেছিল প্রশাসন। এদিনের প্রশাসনিক অ্যাকশন প্রসঙ্গে এখনও পর্যন্ত সাংসদের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কোনও মন্তব্য করেনি কালীঘাট তৃণমূলও। যদিও এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে ‘এবি’কে আক্রমণ করতে ছাড়েনি তৃণমূলের ঋতব্রতপন্থীরা। ‘এটি ডায়মান্ডহারবার মডেলের আসল রূপ’ বলে সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য করেছেন ঋতব্রত শিবিরে নাম লেখানো রাজ্যের প্রাক্তন এক মন্ত্রী।
সুবিশাল পাঁচতলা ঝাঁ চকচকে বহুতল। গত কয়েক বছরে যা ব্যবহৃত হতো ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের ‘এমপি অফিস’ হিসেবে। একসময় দিনরাত লোকজনে গমগম করত এই বাড়ি। গত ৪ মে’র পর থেকে কার্যত বন্ধ ছিল। কিন্তু শনিবার সকাল থেকে এই বহুতল ঘিরে চূড়ান্ত প্রশাসনিক তৎপরতা দেখা যায় আমতলায়।
সকাল থেকে পাঁচতলা এই বহুতলের সমানে বিশাল পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। পরে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এর পরে আসে একটি বুলডোজার। বহুতল ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরে বুলডোজারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় তিন।
জানা গিয়েছে, অভিষেকের ওই কার্যালয়টি বেআইনি ভাবে নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। যে কারণে জেলা পরিষদ থেকে মোট তিনবার নোটিস পাঠানো হয়েছিল মালিককে। বিল্ডিংটা লিপস অ্যান্ড বাউন্সের নামে। অভিষেকের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়র নামে। কিন্তু একটিও শুনানিতে হাজির না হওয়ায় সেটি ভেঙে ফেলার হুলিয়া জারি হয়। সেই মতো আজ বিশাল নিরাপত্তার ঘেরাটোপে অভিযান চালায় প্রশাসন। প্রথমে ওই ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এরপরে চালানো হয় বুলডোজার।