তৃণমূল কংগ্রেসে আড়াআড়ি ফাটলের কারণে ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে নাম লেখাচ্ছেন একের পর এক বিধায়ক, নেতানেত্রী। অনেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করছেন। তাঁর জন্যেই দলের এই হার বলে দাবি করছেন একাধিক প্রবীণ নেতা। ইতিমধ্যেই ৬৫ জন বিধায়ক ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে গিয়েছেন, ২০ জন সাংসদ NCPI দলে নাম লিখিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার মুখ খুললেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘যাঁরা দল ছেড়ে আজ আমাকে গালিগালাজ বা দোষারোপ করছেন... তাঁদের আমি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি। তাঁরা যেন দিদি'র কাছে ফিরে আসেন। যদি তাঁরা তা করেন, তবে আমি এক ঘণ্টার মধ্যে দল থেকে পদত্যাগ করব।
এর পরেই অভিষেকের সংযোজন, ‘বিদ্রোহীরা ফিরে আসবেন না। তাঁরা বিজেপির সঙ্গে আঁতাত করেছেন। দল ছাড়া, বিদ্রোহী শিবির বা বিজেপিতে যোগ দেওয়া, ইডি (ED), সিবিআই (CBI) ও অন্যান্য সংস্থার সুরক্ষা নেওয়া এবং তারপর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দোষারোপ ও গালিগালাজ করা—এটাই তাঁদের কৌশল।’
অন্য দিকে, শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনায় আমতলার তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলীয় কার্যালয়ের বেআইনি অংশ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, এই দলীয় অফিসে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। ওই অফিসের বেআইনি অংশে থাকা বিভিন্ন জিনিস নিয়ে যেতে ট্রাঙ্ক নিয়ে আসা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে অভিষেক জানালেন, ওই অফিসের বৈধ নথি আছে। দলীয় অফিসে ভাঙচুরের ঘটনায় তিনি প্রয়োজনে হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্টেও যাবেন বলে জানান।
পুলিশের অভিযোগ, ওই অবৈধ নির্মাণের জন্য একাধিকবার নোটিস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নোটিস পেয়েও সাড়া দেননি কেউ। সেই কারণেই এ দিন অফিস ভেঙে ফেলা হয়েছে। পাল্টা অভিষেক জানান, গত ১৫ তারিখ শুনানি হয়েছিল, আমাদের প্রতিনিধিরা গিয়েছিলেন। অভিযোগের কপি দিতে পারেনি প্রশাসন।
অভিষেকের অভিযোগ, ‘জেলা প্রশাসন ছাড়াও বিজেপির নেতারা ঝান্ডা নিয়ে ফেট্টি বেঁধে পার্টি অফিসে ঢুকে তাণ্ডব করেছে। প্রধান বিচারপতির ওসডিকে বিষয়টি নিয়ে ই–মেল করেছি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মেনশন করে শুনানি শুরু চেষ্টা করব। সুপ্রিম কোর্টে যাব। ভিডিয়োতে যাঁদের দেখা গিয়েছে, কেউ বাঁচবেন না।’