: জাপান থেকে বাঁকুড়ায় ডোরেমন এবং সিনচ্যান, খুদের কলমে। ‘সিন চ্যান আর ডোরেমন’, টেলিভিশনের পর্দায় দেখা এই জনপ্রিয় জাপানি অ্যানিমেশন চরিত্রগুলিই এবার অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে বাঁকুড়া জেলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র শিবম মণ্ডলের কাছে। গ্রীষ্মের ছুটিতে সময় নষ্ট না করে নিজের কল্পনাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে সে এঁকেছে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিকস। শুধু চরিত্রগুলিকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলাই নয়, সম্পূর্ণ নিজের ভাবনায় তৈরি একটি নতুন গল্পকে ছয়টি ফ্রেমে সাজিয়ে দিয়েছে সে। ছবির রং, সংলাপ, অভিব্যক্তি এবং গল্পের উপস্থাপনা দেখে মুগ্ধ শিক্ষক ও সহপাঠীরা।
শুধু কমিকস নয়, আঁকার ক্ষেত্রেও নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে শিবম। নিজের আঁকার শিক্ষক মহাদেব মুখার্জির হুবহু পোর্ট্রেট এঁকে সকলকে অবাক করেছে সে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষকের প্রতিকৃতিও অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এঁকেছে এই খুদে শিল্পী। মুখের সূক্ষ্ম অভিব্যক্তি, আলো-ছায়ার ব্যবহার এবং বাস্তবসম্মত উপস্থাপনা তার বয়সের তুলনায় যথেষ্ট পরিণত শিল্পচর্চার ইঙ্গিত দেয়।
আঁকার শিক্ষক মহাদেব মুখার্জি জানান, শিবম শুধু জনপ্রিয় চরিত্র আঁকাতেই সীমাবদ্ধ নয়। জল সংরক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয় নিয়েও সে নিজেই একটি স্বতন্ত্র এক-প্যানেলের কমিকস তৈরি করেছে। খুব সহজ ভাষা ও ছবির মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছে সে। শিক্ষক বলেন, শিবমের সবচেয়ে বড় শক্তি হল, সে অন্যের কাজ দেখে শেখে, কিন্তু নিজের কল্পনাশক্তি দিয়ে নতুন গল্প ও নতুন ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে।
অল্প বয়সেই শিল্পের প্রতি এমন নিষ্ঠা ও সৃজনশীলতা নজর কেড়েছে সকলের। পরিবার এবং শিক্ষকদের উৎসাহে প্রতিদিনই নিজের দক্ষতাকে আরও শাণিত করছে শিবম মণ্ডল। কমিকস, পোর্ট্রেট এবং সামাজিক বার্তাধর্মী চিত্র— সব ক্ষেত্রেই তার সৃজনশীলতার ছাপ স্পষ্ট। ভবিষ্যতে এই খুদে শিল্পী আরও বড় মঞ্চে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখবে, এমনটাই আশা শিক্ষক ও পরিবারের।