'আমিও দল ছেড়ে চলে যাবো!' মমতাকে জানিয়ে দিলেন কল্যাণ, কী শর্ত দিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ?
News18 বাংলা | ১৮ জুলাই ২০২৬
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সঙ্গী, অনুগতরাও একে একে তাঁর সঙ্গ ছেড়েছেন৷ কেউ নাম লিখিয়েছেন এনসিপিআই-তে, কেউ আবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন নব তৃণমূলে নাম লিখিয়েছেন৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে হাতেগোনা যে কয়েকজন পুরনো মুখ পড়ে রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়৷
যদিও বাঁকুড়ায় ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভায় গিয়ে শ্রীরামপুরের সাংসদ জানিয়ে দিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর শর্ত না মানলে ভবিষ্যতে তিনিও দল ছাড়ূবেন৷
বাঁকুড়ার তৃণমূল ভবনে ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভায় যোগ দিতে এসেছিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র৷ সেই সভাতেই কল্যাণ বলেন, ‘যে যেখানে যাচ্ছে যাক। যে যেখানে ভাল থাকে থাকুক। কিন্তু আমি মমতাদিকে জানিয়ে দিয়েছি এদের আবার দলে ফিরিয়ে নিলে আমি দল ছেড়ে চলে যাবো।’
দলত্যাগী তৃণমূল সাংসদদের নিশানা করে কল্যাণ আরও বলেন, এক দেশ এক ভোট বিল পাশ করার জন্যেই তৃণমূল সাংসদদের কিনেছে বিজেপি। কিন্তু ওই বিল পাশ হয়ে গেলে ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনের পাশাপাশি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনও হবে। তখন এই দুমুখোরা প্রার্থী হতে পারবে না।
এ দিনের প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য রাখতে উঠে কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রও একহাত নেন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ ২০ জন সাংসদকে। তাঁর দাবি, ‘যাদের বিরুদ্ধে বিজেপি নেতারা লড়াই করেছে তাদের এখন দলে নিতে পারছে না। সেজন্য একটি বাফার জোন তৈরি করে এদের রেখেছে। ২০২৯ সালে এদের সবার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। তখন এরা না তৃণমূলের থাকবে না বিজেপিতে যোগ দিতে পারবে।’
প্রসঙ্গত, তৃণমূলে বিদ্রোহ শুরু হওয়ার পরেই হাইকোর্টের একটি মামলা থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সেই সময়ও দল ছেড়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি শোনা গিয়েছিল তাঁর গলায়৷ এর পর অভিষেক বিষয়টি নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করায় ফের কালীঘাট তৃণমূলের হয়ে সক্রিয় হয়েছেন কল্যাণ৷ জেলায় জেলায় গিয়ে একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভায় অংশ নেওয়া থেকে শুরু করে দলের প্রতীক, নাম রক্ষায় দিল্লিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনে তদ্বির, আইনি সওয়াল করা, সবই করছেন অভিজ্ঞ এই সাংসদ৷ তার মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চরমবার্তা দিয়ে রাখলেন তিনি৷