দলের সঙ্গে অনুশীলন নয়, আর্জেন্তিনা মহারণের আগে স্পেনের চিন্তা বাড়ালেন ইয়ামাল, পেদ্রো দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার লামিনে ইয়ামাল এবং পেদ্রো পোরো বৃহস্পতিবার সতীর্থদের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ
এই সময় | ১৭ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপ ফাইনালের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। ঠিক এমন সময়েই স্পেন (Spain) শিবিরে বাড়ল উদ্বেগ। দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার লামিনে ইয়ামাল এবং পেদ্রো পোরো বৃহস্পতিবার সতীর্থদের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে নামেননি। আলাদা করে তাঁদের প্রস্তুতি নিতে দেখা যায়, যা স্বাভাবিক ভাবেই চিন্তা বাড়িয়েছে স্প্যানিশ সমর্থকদের।
আর্জেন্তিনার (Argentina) বিরুদ্ধে মহারণের আগে ইয়ামালকে ঘিরে যে কোনও খবরই এখন বড় বিষয়। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে পুরো ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। সেই ম্যাচের ধকল এবং শারীরিক ক্লান্তির কারণেই তাঁকে কিছুটা বাড়তি বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পোরোর ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।
তবে স্বস্তির খবরও রয়েছে। স্পেন শিবিরের বিশ্বাস, রবিবারের ফাইনালের আগে দু'জনই পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে উঠবেন। তাই আপাতত উদ্বেগ থাকলেও আশা ছাড়ছেন না স্প্যানিশ সমর্থকরা। কারণ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে, সবচেয়ে বড় লড়াইয়ের আগে লামিনে ইয়ামালকে ছাড়া স্পেনকে কল্পনাই করতে চাইছে না কেউ।
ফ্রান্সের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে পুরো ম্যাচ খেলেছিলেন লামিনে ইয়ামাল। ম্যাচের পর তিনি বেশ ক্লান্ত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি কিছু শারীরিক সমস্যাও রয়েছে তাঁর। অন্যদিকে পেদ্রো পোরো ফ্রান্স ম্যাচের ৮৫ মিনিটে পেশিতে অস্বস্তি অনুভব করায় মাঠ ছাড়েন।
স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে জানিয়েছেন, পোরোর পেশিতে অতিরিক্ত চাপ পড়েছে। তাই তাঁকে নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। তবে ইয়ামালকে নিয়ে বড় কোনও উদ্বেগ নেই বলেই জানালেন তিনি। দে লা ফুয়েন্তের দাবি, ‘যত দূর জানি, লামিনের কোনও গুরুতর সমস্যা নেই। চিকিৎসক দলের সঙ্গে কথা বলেছি, সব কিছুই ইতিবাচক মনে হচ্ছে।’ ESPN-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাজের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতেই দুই ফুটবলারকে আলাদা অনুশীলন করানো হয়েছে। ফাইনালে দু'জনেরই খেলার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্বকাপের শুরুটা ভালো হয়নি স্পেনের। বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া কেপ ভের্দের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র দিয়ে অভিযান শুরু করেছিল তারা। তবে এর পরই ঘুরে দাঁড়ায় বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়নরা। সৌদি আরবকে হারানোর পর একের পর এক জয় তুলে নেয় স্পেন।
পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করেছে তারা, সেটিও বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে অনেকেই তাদের পিছিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু রদ্রির নিয়ন্ত্রণে মাঝমাঠ দাপট দেখায় স্পেন। একই সঙ্গে কিলিয়ান এমবাপে ও ওউসমান দেম্বেলেদেরও কার্যত আটকে রাখে তাদের রক্ষণভাগ।
স্পেনের ফাইনাল যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন মিকেল ওয়ারজ়াবাল। পাঁচ গোল করে দলের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছেন তিনি। ইউরো ২০২৪ ফাইনালেও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয়সূচক গোল করেছিলেন এই ফরোয়ার্ড। তবে ফাইনালের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে চলেছে লামিনে ইয়ামাল বনাম লিওনেল মেসি। ছোটবেলায় মেসির সঙ্গে তোলা একটি ছবি ইয়ামালের কেরিয়ারের অন্যতম আলোচিত স্মৃতি। এখন সেই ইয়ামালই বিশ্বের অন্যতম সেরা তরুণ ফুটবলার। বার্সেলোনার বহু সমর্থক তাঁকে মেসির উত্তরসূরি বলেও মনে করেন।
রবিবারের ফাইনালে তাই শুধু স্পেন বনাম আর্জেন্তিনা নয়, নজর থাকবে দুই প্রজন্মের দুই তারকার লড়াইয়েও— একদিকে ফুটবলের রাজা মেসি, অন্যদিকে তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে দেখা লামিনে ইয়ামাল।