বিশ্বকাপের ফাইনালের স্বপ্নটা চোখের সামনে ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে। আর্জেন্তিনার (Argentina) বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে শেষ মুহূর্তের সেই হৃদয়ভাঙা হার এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে ইংল্যান্ডকে (England)। তবু হতাশা, কষ্ট আর আক্ষেপের মাঝেও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ভুললেন না জুড বেলিংহ্যাম (Jude Bellingham)। আবেগে ভরা এক বার্তায় তিনি বুঝিয়ে দিলেন, এই ব্যর্থতার গল্পেই শেষ নয় ইংল্যান্ডের পথচলা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা সেই বার্তার কেন্দ্রে ছিল একটি বিশেষ চিঠি। ইংল্যান্ড দলের বাসচালক মাইকেল চ্যান্ডলারের হাতে লেখা সেই চিঠির শিরোনাম ছিল ‘দ্য লায়ন্স ওয়ে’। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ফলাফল হতাশাজনক হলেও এই দল গোটা দেশকে একসঙ্গে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে। খেলোয়াড়রা শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে, দেশের জার্সির মর্যাদা রেখেছে এবং এমন কিছু স্মৃতি তৈরি করেছে যা বহুদিন মনে থাকবে। চিঠির শেষের বার্তাটাই ছিল সবচেয়ে স্পর্শকাতর— মাথা উঁচু করেই দেশে ফিরুন, কারণ ট্রফি না জিতলেও আপনারা লক্ষ লক্ষ সমর্থকের হৃদয়ে গর্বের জায়গা করে নিয়েছেন।
১৬ জুলাই আর্জেন্তিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ইংল্যান্ড। অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষ দিকে লিওনেল মেসির অনুপ্রেরণায় ঘুরে দাঁড়ায় আর্জেন্তিনা। এই হতাশার মধ্যেই ১৭ জুলাই সোশ্যাল মিডিয়ায় মাইকেল চ্যান্ডলারের সেই হাতে লেখা চিঠির ছবি পোস্ট করেন বেলিংহ্যাম। কানসাসে থাকার সময় তিনি চিঠিটি পেয়েছিলেন। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর যখন গোটা দল হতাশায় ডুবে, তখন সেই কয়েকটি লাইনই যেন নতুন করে শক্তি জুগিয়েছে ইংল্যান্ড তারকাকে।
চিঠির ছবি শেয়ার করে বেলিংহ্যাম লিখেছেন, ‘গতকাল এবং গত কয়েক সপ্তাহ নিয়ে কী বলব, সেটা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। কিন্তু আমাদের বাসচালকের এই চিঠিটাই সব কিছু সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে। দেশে থাকা সমর্থক এবং যারা নিজেদের কষ্টের টাকা খরচ করে আমেরিকায় এসে আমাদের সমর্থন করেছেন, সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’
সঙ্গে তিনি যোগ করেছেন, ‘এই টুর্নামেন্ট শেষ হয়ে গেলেও দেশের মানুষের মধ্যে যে ঐক্য ও ভালোবাসা দেখেছি, তা যেন শেষ না হয়। আমরা একসঙ্গে থাকলে বড় কিছু অর্জন করতে পারি। আর আমরা সেটা করবই। সবাইকে ভালোবাসা।’
দল ফাইনালে উঠতে না পারলেও গোটা টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা ফুটবলার ছিলেন বেলিংহ্যাম। বিশ্বকাপে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ছ’টি গোল। নরওয়ের (Norway) বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে জোড়া গোল করে দলকে সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
এ বার তৃতীয় স্থান নির্ধারণের ম্যাচে ফ্রান্সের (France) বিরুদ্ধে মাঠে নামবে ইংল্যান্ড। কিন্তু সেমিফাইনালের হতাশার মাঝেও বাসচালকের সেই চিঠি এবং বেলিংহ্যামের বার্তা নতুন করে মনে করিয়ে দিল— হারলেও শেষ হয়ে যায় না গল্প, কখনও কখনও সেখান থেকেই শুরু হয় পরের লড়াই।