এবার কি বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভার পথে কোয়েলও? ইঙ্গিতপূর্ণ জবাব শমীকের
প্রতিদিন | ১৮ জুলাই ২০২৬
ঘাসফুল শিবিরের ছত্রভঙ্গ দশা যেন আর কাটছে না! এখনও একের পর এক নেতা, জনপ্রতিনিধি দল ছাড়ছেন। যোগ দিচ্ছেন হয় বিজেপিতে, নয়তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে চলে যাচ্ছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছেড়েছেন টলিউড তারকা কোয়েল মল্লিক (Koel Mallick)। ইস্তফাপত্র দিয়েই তিনি দেখা করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপির সর্বভারতীয় পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে। তাতেই জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে, এবার কি পদ্মশিবিরের হয়ে ফের রাজ্যসভায় যাবেন কোয়েল? সুখেন্দুশেখর রায়-সহ তিনজনের মতোই? এনিয়ে শুক্রবার সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে (Samik Bhattacharya)। তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, ‘‘কোয়েল-দোয়েল-পায়েল কেউ কোনও বিষয় না। সংবাদমাধ্যমে এটা নিয়ে চর্চা চলছে, চলুক না।”
ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পরপরই দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত সংসর্গ ত্যাগ করেছিলেন বর্ষীয়ান সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। একই পথে হাঁটেন আরও দুই সাংসদ – সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইক। এরপর সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই বড়সড় রদবদল ঘটে যায়। সল্টলেকের বিজেপি দপ্তরে গিয়ে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর হাত ধরে তিনজনই যোগ দেন বিজেপিতে। রাতারাতি রাজ্যসভার টিকিট পেয়ে যান। সংখ্যাতত্ত্বের ভিত্তিতে এই তিন আসনে তৃণমূলের প্রার্থী দেওয়ার কোনও অবকাশ নেই। তাই বিনা প্রতিন্দ্বন্দ্বিতায় ফের সংসদের উচ্চকক্ষে যাচ্ছেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব, প্রকাশ চিক বরাইক। শুক্রবার তাঁদের হাতে সার্টিফিকেটও তুলে দিয়েছেন বিধানসভার স্পিকার।
এবার কি সেই পথেই হাঁটতে দেখা যাবে সদ্য পদত্যাগী তারকা সাংসদ কোয়েলকে? শুক্রবার এনিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে। যিনি বারবার বলেন, ‘‘বিজেপিতে তৃণমূলীকরণ হবে না।” কোয়েলকে বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভায় পাঠানো হবে কি না, তা নিয়ে শমীকের জবাব, ‘‘দেখুন, এ বিষয়ে আমাদের নির্দিষ্ট সংসদীয় দল আছে। তারা এই সিদ্ধান্ত নেবে। তবে আমাদের কাছে কোয়েল-দোয়েল-পায়েল কেউ কোনও বিষয় না। বিষয়টা হল বিজেপি, বিষয়টা হল নরেন্দ্র মোদি। সুখেন্দুশেখর রায়রা স্বেচ্ছায় দল ছেড়ে এসেছেন, তাঁরা বিজেপিতে যোগ দিতে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তাই তাঁরা বিজেপির হয়ে রাজ্যসভায় গিয়েছেন। কিন্তু সামগ্রিকভাবে আমি দলের তরফে বলছি, বিজেপিতে তৃণমূলীকরণ হবে না। চর্চা যা চলছে, চলুক।”