• কলকাতা বিমানবন্দরের মসজিদ বিতর্কের জেরে বাংলাদেশে বিক্ষোভ, বিজেপি MLA সৌরভের ফাঁসির দাবি
    আজ তক | ১৮ জুলাই ২০২৬
  • কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চত্বরে থাকা মসজিদ স্থানান্তর নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ সিকদারের মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে বাংলাদেশে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    শুক্রবার ঢাকার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের বাইরে একদল বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে সৌরভ সিকদারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। তাঁদের হাতে থাকা ব্যানারে বিধায়ককে মসজিদ স্থানান্তরের উদ্যোগের অন্যতম মুখ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বিক্ষোভকারীরা তাঁর ফাঁসির দাবিও তোলেন।

    দমদম উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক সৌরভ সিকদার দীর্ঘদিন ধরেই বিমানবন্দর চত্বরে থাকা ওই মসজিদটি স্থানান্তরের পক্ষে সওয়াল করে আসছেন। তাঁর দাবি, মসজিদটির বর্তমান অবস্থান বিমানবন্দরের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করছে। এ নিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রকের কাছেও বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন।

    বাংলাদেশের বিক্ষোভ প্রসঙ্গে সৌরভ সিকদার জানান, সাংবাদিকদের কাছ থেকে তিনি ওই কর্মসূচির ভিডিও পেয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের বিক্ষোভের উদ্দেশ্য তাঁকে ভয় দেখানো।

    বিধায়কের বক্তব্য, ভারতে এই ধরনের কার্যকলাপ সম্ভব না হওয়ায় বাংলাদেশে তা করার চেষ্টা হচ্ছে। তিনি বাংলাদেশের সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, যাতে এ ধরনের ঘটনা রুখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাঁর মতে, এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

    সৌরভ সিকদার আরও দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট জমিটি এয়ারপোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার অধীনে রয়েছে এবং মসজিদ স্থানান্তর নিয়ে কেন্দ্র ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

    তাঁর অভিযোগ, বাংলাদেশে হওয়া এই বিক্ষোভের নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা উচিত। তিনি দাবি করেন, মসজিদ স্থানান্তরের বিরোধিতাকারীদের হতাশার বহিঃপ্রকাশই এই প্রতিবাদ।

    নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে সৌরভ সিকদার বলেন, বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ এবং যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে মসজিদটি স্থানান্তর করা প্রয়োজন। তাঁর দাবি, এটি একটি উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে অবস্থিত, যেখানে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী-সহ বহু ভিভিআইপি বিমানের ওঠানামা হয়।

    এছাড়া প্রযুক্তিবিদ ও পাইলটদের একাংশের উদ্বেগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, প্রতিকূল আবহাওয়ায় বিমান অবতরণের সময় ওই স্থাপনার অবস্থান পরিচালনগত সমস্যা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে মসজিদটি যে জমিতে নির্মিত হয়েছে, সেই জমির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    এই ইস্যুতে তিনি রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীকেও নিশানা করেছেন। সৌরভ সিকদারের অভিযোগ, মন্ত্রী তাঁকে 'গুণ্ডা' বলে আক্রমণ করার একদিন পরই বাংলাদেশে তাঁর মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে বিক্ষোভ হয়। এর মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

    তবে সমস্ত হুমকির মধ্যেও তিনি ভীত নন বলে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকেও গোটা ঘটনার কথা জানানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিধায়ক।

    কলকাতা বিমানবন্দরের মসজিদ স্থানান্তর ইস্যু ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনীতিতে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। একদিকে নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নের যুক্তি তুলে ধরা হচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধীরা এই সিদ্ধান্তের প্রয়োজনীয়তা ও সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

     
  • Link to this news (আজ তক)