শুক্রবার মুর্শিদাবাদ জেলায় আজিমগঞ্জ-কাটোয়া শাখার কর্ণসুবর্ণ স্টেশনের গোবিন্দপুর রেলগেটের কাছে দুর্ঘটনায় পাঁচ স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে। এর মাঝেই আরও একটি দুর্ঘটনা আসানসোলে। পড়ুয়াদের পুলকারে ধাক্কা একটি নিয়ন্ত্রণহীন মিনিবাসের। ঘটনায় এক পথচারীর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত ব্যক্তির নাম জয়দেব মণ্ডল (৬১)। কয়েকজন স্কুল পড়ুয়া আহত হয়েছে বলে খবর।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকাল আটটা নাগাদ আসানসোল থেকে মিনিবাসটি রানিগঞ্জে যাচ্ছিল। আসানসোলের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের একটি পুলকার সেই সময়ে সবেমাত্র মুর্গাসোল থেকে পড়ুয়াদের তুলে কয়েক গজ এগিয়েছে। হঠাৎই মিনিবাসটি এক পথচারীকে পিষে দিয়ে পুলকারটির পিছনের দিকে সজোরে ধাক্কা মারে। দুর্ঘটনার পরেই স্থানীয়রা পুলকারটি থেকে পড়ুয়াদের বের করে আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। এ দিকে যাত্রিবোঝাই মিনিবাস ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে যান চালক ও কন্ডাক্টর।
দুর্ঘটনার পরেই এলাকার বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁদের অভিযোগ, শহরের মিনিবাসগুলি কোনও রকম ট্রাফিক আইন মেনে চলে না। যাত্রী তোলার জন্য লাগামছাড়া গতিতে বাস চালানো হয়। সেই কারণেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে। অন্য দিকে বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, ঠিক যেখানে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানে রাস্তার অনেকাংশ দখল করে অস্থায়ী দোকান বসানো হয়েছে। রাস্তা দখল করে অবৈধ ভাবে গাড়ি পার্কিং করে রাখা হয়। ফলে সঙ্কীর্ণ হয়েছে জিটি রোড। এই কারণেই বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে। পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় যে পথচারীর মৃত্যু হয়েছে, তিনি আদতে পুরুলিয়ার কাশিপুরের বাসিন্দা। আসানসোলের একটি হোটেলের কর্মী ছিলেন তিনি। তাঁর কর্মস্থলে খবর দেওয়া হয়েছে। অন্য দিকে আসানসোল জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঁচ পড়ুয়াকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে তিন জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা করে, তখনই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দু’জনকে ভর্তি করে নেওয়া হয়েছে। তবে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল।
রিপোর্টার: সুশান্ত বণিক