• চুপ করে থাকার দিন শেষ! পঞ্চায়েতের ভরসা ছেড়ে গ্রামবাসীরা যা করলেন, সবাই অবাক
    News18 বাংলা | ১৭ জুলাই ২০২৬
  • পঞ্চায়েতের অপেক্ষা নয়, চাঁদা তুলে নিজেরাই রাস্তা সারালেন গ্রামবাসীরা। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা রাস্তা সংস্কারের দাবিতে একাধিকবার পঞ্চায়েতের দ্বারস্থ হয়েও কোনও সমাধান মেলেনি। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের অপেক্ষায় না থেকে নিজেদের উদ্যোগেই চাঁদা তুলে রাস্তা সংস্কারের কাজে হাত লাগালেন গ্রামবাসীরা। এই ঘটনাকে ঘিরে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাড়োয়া ব্লকের কুলটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে যেমন ক্ষোভ, তেমনই রয়েছে আত্মনির্ভরতার এক অনন্য নজির।

    হাড়োয়া ব্লকের কুলটি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত কামারগাতি ব্রিজ সংলগ্ন এই রাস্তা দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই বেহাল অবস্থায় রয়েছে। বড় বড় গর্ত, কাদা এবং ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। স্কুলপড়ুয়া, কর্মজীবী মানুষ, রোগী বহনকারী অ্যাম্বুল্যান্স,  সকলেরই যাতায়াতে সমস্যার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এই রাস্তা।

    বিষয়টি নিয়ে বারবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরেও রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়তে থাকে এলাকাবাসীর মধ্যে। অবশেষে গ্রামের মানুষ নিজেরাই উদ্যোগ নেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাঁদা সংগ্রহ করা হয়। সেই অর্থেই রাস্তার গর্ত ভরাট করে সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করে তোলার কাজ শুরু করেন গ্রামবাসীরা। কাজে অংশ নেন এলাকার যুবক থেকে প্রবীণ, সকলেই। তাঁদের এই উদ্যোগে স্বস্তি ফিরেছে পথচলতি সাধারণ মানুষের মধ্যে।

    তবে গ্রামবাসীদের বক্তব্য, এটি স্থায়ী সমাধান নয়। বর্ষার জল ও ভারী যানবাহনের চাপে এই অস্থায়ী সংস্কার বেশিদিন টিকবে না। তাই দ্রুত প্রশাসনের উদ্যোগে রাস্তাটি কংক্রিটের ঢালাই করে স্থায়ীভাবে নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এলাকাবাসীর আশা, তাদের এই উদ্যোগ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে এবং ভবিষ্যতে রাস্তার স্থায়ী সংস্কারের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে নিরাপদ ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবিই এখন কামারগাতি-সহ আশেপাশের গ্রামের মানুষের প্রধান দাবি।
  • Link to this news (News18 বাংলা)