বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীর বাড়ির সামনে দুষ্কৃতী তাণ্ডব চলেছে বলে অভিযোগ। মাঝরাতে মোটরবাইকে করে তিনজন দুষ্কৃতী এসে হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। গুলি করার, বোমা মারার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। যখন এই ঘটনা ঘটেছে তখন অবশ্য কৌস্তভ বাগচী বাড়িতে ছিলেন না। টিটাগড় থানায় এই ঘটনা নিয়ে অভিযোগ জানানো হয়েছে। আর তারপরই ৬ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে শুরু করেছে পুলিশ। কৌস্তভ এখন বিধায়ক হলেও বরাবরই তাঁকে আইনজীবী হিসাবেই সকলে চেনে। তাঁর বাড়ির সামনে এমন ঘটনা কেন ঘটল? উঠছে প্রশ্ন।
এদিকে বিধায়ক এই ঘটনা নিয়ে জানান, বোমা-গুলি চালানোর হুমকির পাশাপাশি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে। রাতের অন্ধকারে এভাবেই চলে তাণ্ডব। এই ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত। বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লা খুনের তদন্ত চেয়েছেন বলেই তাঁর বাড়িতে এমন হামলার ছক করা হয়েছে। তিনি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন ব্যারাকপুর পুরসভার তৃণমূলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান উত্তম দাস-সহ বিজেপির কয়েকজনকে। এঁদের সঙ্গে কৌস্তভের সম্পর্ক ভাল না বলে সকলেই জানেন। কিন্তু কৌস্তভ এখন শুধু নেতা নন। এখন তিনি বিধায়ক। এই বিষয়ে কৌস্তভ বাগচী সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘ব্যারাকপুরে তৃণমূলের যাঁরা বড় বড় নেতা রয়েছেন, ব্যারাকপুরের তৃণমূলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান উত্তম দাস, টিটাগড়ের প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রশান্ত চৌধুরী, রাজা পাসওয়ান থেকে শুরু করে যাঁরা আছেন, বিজেপিতে যোগদানের জন্য তাঁরা উদগ্রীব হয়ে আছেন এবং উঠেপড়ে লেগেছেন।’
অন্যদিকে তৃণমূলের এইসব নেতারা বিজেপিতে ঢুকতে চাইছেন। সেখানে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন কৌস্তভ। আর তার জন্যই এমন তাণ্ডব করা হয়েছে বলে বিধায়কের দাবি। আর পরিকল্পিতভাবে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে ভয় দেখাতে এই তাণ্ডব চালানো হয়েছে। তাঁর উপর প্রাণঘাতী হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিধায়ক। এই ঘটনা নিয়ে ব্যারাকপুরের বিধায়কের বক্তব্য, ‘আমাদের কিছু লোকজনকে ওঁরা ধরেছেন, যাতে যোগদানে কোনও সমস্যা না হয়। অনেক জায়গায় তাঁদের সমস্যা হচ্ছে যে কৌস্তভ বাগচী তো ম্যানেজ হওয়ার মতো লোক নয়। কৌস্তভ বাগচীর নামে মাঝেমধ্যে মিথ্যা কিছু অপপ্রচার করে বাজার গরম করার চেষ্টা হয়। বাড়ির লোককে আতঙ্কিত করে গালিগালাজ, প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এরপরেও যদি সফল না হয়, হয়তো আমার উপরেও প্রাণঘাতী হামলা আসবে।’
তাছাড়া দুষ্কৃতীদের তাণ্ডবের সিসিটিভি ফুটেজ এদিন প্রকাশ করেন বিধায়ক। ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি মোটরবাইকে চেপে তিন ব্যক্তি বিধায়কের বাড়ির সামনে দিয়ে বারবার যাতায়াত করছে। তারপরই গালিগালাজ এবং হুমকি উড়ে আসে। গোটা ঘটনা নিয়ে কৌস্তভের সাফ কথা, ‘মোটরবাইকে চেপে যাওয়ার সময় বিধায়ককে দেখে নেব, বুঝে নেব, বোমা মারব, গুলি করব বলা হয়েছে। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে। মণীশ শুক্লার খুনের তদন্ত চেয়েছি বলে অনেকের মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে। রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে।’