সম্প্রতি তিনি তৃণমূলের কালীঘাট শিবির ছেড়ে যোগ দিয়েছেন ঋতব্রত শিবিরে। সেই সঙ্গে বীরভূমের জেলা সভাপতিও হয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল। এর পরে News18 বাংলাকে সাক্ষাৎকার দেন অনুব্রত মণ্ডল।
শিবির বদলালেও দল ছাড়েননি, দাবি বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডলের। কিন্তু এখনও মাথার পিছনে ঘরের দেওয়ালে সাজানো রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। তাঁকে এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অনুব্রত সাফাই দেন, “শুধু মমতা নয়, প্রত্যেক মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর ছবি আমার বাড়িতে লাগানো আছে”। পরক্ষণেই অনুব্রতকে প্রশ্ন করা হয়, “মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকীরের ছবি কবে লাগাবেন?” সেই প্রশ্নের উত্তরে অনুব্রত বলেন, “ঠিক সময় মতো লাগাব”।
বৃহস্পতিবার, গতকালের নব তৃণমূলের সভায় করা মন্তব্যেরই পুনরাবৃত্তি করে অনুব্রত বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চোখ দিয়ে নয়, কান দিয়ে দেখতেন।” তাঁর দাবি, দলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দায় নিতে হবে।
এদিন অনুব্রত মণ্ডল আরও দাবি করেন, একসময় বীরভূম জেলা থেকে দলের জন্য বছরে প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকা রাজস্ব আসত। বর্তমানে সেই অঙ্ক নেমে এসেছে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকায়। কেন এত বড় আর্থিক পতন ঘটল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তাঁর কথায়, “সব কিছুই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানতেন। জেনেও তিনি কেন চুপ ছিলেন?” এই মন্তব্যের মাধ্যমে দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দেন অনুব্রত। ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি এদিনও সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক নানা বিষয় নিয়ে সরব হন তিনি। গত কয়েকদিন ধরে দলের নেতৃত্বকে উদ্দেশ্য করে অনুব্রত মণ্ডলের ধারাবাহিক মন্তব্য ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে জোর রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছে। রথযাত্রার দিনেও তাঁর একই সুর বজায় থাকায় সেই বিতর্ক আরও উসকে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।