• সরকারি উপহারে বদলে গেল কালনার চেহারা, প্রাচীন 'এই' রথযাত্রায় জাঁকজমক দেখার মতো
    News18 বাংলা | ১৭ জুলাই ২০২৬
  • পূর্ব বর্ধমানের কালনায় ঐতিহ্য ও ধর্মীয় আবেগে পালিত হল প্রায় ২৭৭ বছরের প্রাচীন লালজি মহারাজের রথযাত্রা। টেরাকোটার ঐতিহাসিক মন্দির চত্বরে রীতি মেনে প্রথমে পালকিতে করে লালজি মহারাজকে মন্দির থেকে এনে রথে প্রতিষ্ঠা করা হয়। কালনার এই রথযাত্রার বিশেষত্ব হল, এখানে জগন্নাথ, বলরাম বা সুভদ্রা নন, রথে আরোহন করেন লালজি মহারাজ।

    স্থানীয়দের মতে, লালজি মন্দির প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই এই রথযাত্রার প্রচলন। মাঝখানে বহু বছর রথযাত্রা বন্ধ থাকলেও ২০০৮ সালে ফের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা হয়। এবার ২৭৭ বছরে পদার্পণ করল এই প্রাচীন রথযাত্রা। এ বছর রাজ্য সরকারের উদ্যোগে রাজ্যের সাতটি প্রাচীন রথযাত্রার মধ্যে কালনা টাউন রথ কমিটি স্বীকৃতি পেয়েছে এবং উৎসব পরিচালনার জন্য ৫ লক্ষ টাকা অনুদান পেয়েছে। এই অর্থে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, বৃক্ষ বিতরণ, প্রসাদ বিতরণসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

    বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদার বলেন, “এই রথযাত্রায় অংশগ্রহণ করে বেশ ভাল লেগেছে। সকলের সঙ্গে ভালই কেটেছে।” রথযাত্রা উপলক্ষে এদিন একটি ক্রাফট মেলারও আয়োজন করা হয়। উদ্যোক্তারা জানান, আপাতত সাময়িকভাবে শুরু হলেও ভবিষ্যতে এটিকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ১০৮ শিবমন্দির ও রাজবাড়ির মতো পর্যটনকেন্দ্রের কাছে স্থানীয় তাঁতি ও হস্তশিল্পীদের বিনামূল্যে বা নামমাত্র খরচে স্টল দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে পর্যটকদের মাধ্যমে তাঁদের শিল্প ও আয়ের সুযোগ বৃদ্ধি পায়।

    এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কালনার মহকুমা শাসক অহিংসা জৈন, কালনার বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদার-সহ প্রশাসনের আধিকারিক এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। দিনভর নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয় এই ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা। পাশাপাশি ভক্তদের জন্য প্রসাদ বিতরণেরও ব্যবস্থা করা হয়। কথায় আছে, “দেখবি যদি রথ, ধর কালনার পথ”। সেই ঐতিহ্য আজও অটুট রেখে হাজার হাজার মানুষের সমাগমে মুখর হয়ে উঠল কালনার রথ উৎসব।
  • Link to this news (News18 বাংলা)