ইতিহাসের জীবন্ত দলিল! দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বাইনোকুলার থেকে ব্রিটিশ আমলের টাইপরাইটার আগলে শিক্ষক
News18 বাংলা | ১৭ জুলাই ২০২৬
: ইতিহাস শুধু বইয়ের পাতায় নয়, অতীতের স্পর্শও লুকিয়ে থাকে পুরনো ব্যবহৃত সামগ্রীতে। সেই ইতিহাসকেই যত্নে আগলে রেখেছেন মালদহ শহরের এয়ারভিউ কমপ্লেক্স এলাকার বাসিন্দা তথা মানিকচক শিক্ষা নিকেতনের ইতিহাস শিক্ষক সন্দীপ কাঞ্জিলাল। ছাত্রজীবন থেকেই পুরনো ও ঐতিহাসিক সামগ্রী সংগ্রহের নেশা তাঁর। পারিবারিক সংগ্রহ থেকে শুরু হওয়া সেই শখ আজ রূপ নিয়েছে এক সমৃদ্ধ ব্যক্তিগত সংগ্রহশালায়। সন্দীপবাবুর সংগ্রহে রয়েছে ব্রিটিশ আমলে ব্যবহৃত টাইপরাইটার, টেলিফোন, টেলিগ্রাফ যন্ত্র, বাইনোকুলার, স্টপওয়াচ, ক্যামেরা, লণ্ঠন, মিক্সার মেশিন-সহ প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ বছর পুরনো বহু মূল্যবান সামগ্রী। এছাড়াও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত বাইনোকুলারও রয়েছে তাঁর সংগ্রহে, যা বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
জানা যায়, এই সমস্ত সামগ্রীর বেশিরভাগই ব্রিটেন থেকে ভারতে আনা হত এবং ব্রিটিশ শাসনামলে সরকারি দফতর ও উচ্চবিত্ত সমাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো। এক সময় যেসব যন্ত্র ছিল আধুনিকতার প্রতীক, আজ সেগুলিই ভারতের উপনিবেশিক ইতিহাসের নীরব সাক্ষী। এই সামগ্রীগুলোর মাধ্যমে সেই সময়ের প্রযুক্তি, জীবনযাত্রা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার একটি স্পষ্ট চিত্র ফুটে ওঠে।
সংগ্রাহক সন্দীপ কাঞ্জিলাল জানান, “পারিবারিক সংগ্রহের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগ্রাহকের কাছ থেকে সংগ্রহ এবং অনেকের দানেও সমৃদ্ধ হয়েছে তাঁর সংগ্রহশালা। প্রতিটি সামগ্রী তিনি অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে সংরক্ষণ করেন। কাঁচের শোকেস, আলমারি ও বিশেষ বাক্সে সুরক্ষিতভাবে রাখা হয় প্রতিটি নিদর্শন, যাতে সময়ের ক্ষয়ক্ষতি থেকে সেগুলো রক্ষা পায়।”
এদিন মালদহ নিউমিসম্যাটিক অ্যান্ড কালেক্টরস ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এক দুষ্প্রাপ্য সামগ্রী প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তাঁর এই প্রদর্শনী নজর কাড়ে। সন্দীপ কাঞ্জিলালের মতে, ইতিহাসকে জানার সবচেয়ে সহজ উপায় হল ইতিহাসের বাস্তব নিদর্শনকে সামনে থেকে দেখা। তাঁর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শুধু সংগ্রহের নেশা নয়, আগামী প্রজন্মের কাছে অতীতকে জীবন্ত করে তোলার এক অনন্য প্রয়াস। মালদহের এই ব্যক্তিগত সংগ্রহ আজ ইতিহাসপ্রেমী ও গবেষকদের কাছেও এক বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।