আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে রথ এবং রথের মেলার এক বিশেষ ঐতিহ্য রয়েছে। রাজ্যের মধ্যে ঐতিহ্যশালী মাহেশ, গুপ্তিপাড়ার রথ থেকে শুরু করে বহরমপুরের জগন্নাথতলা বা গোরাবাজারের রথ সর্বত্রই রথযাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে খাবারের এক ঐতিহ্য।
আর রথের মেলা মানেই গরম তেলে ভাজা মুচমুচে পাপড় আর মিষ্টি শিরায় ডুবিয়ে রাখা গরম জিলিপির মিষ্টি-নোনতা মেশানো সুবাস। এই দুই খাবার বাঙালির শৈশব, স্মৃতি আর ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
রথযাত্রার দিন মেলায় না গেলেও অনেকের বাড়িতেই এই দুইয়ের আগমন ঘটবেই। পাপড় আর জিলিপি ছাড়া রথযাত্রা যেন এখনও বাঙালির কাছে অসম্পূর্ণ।
রথযাত্রার দিন পাপড় ভাজা খাওয়ার এই প্রথার পিছনে রয়েছে এক অজানা কাহিনী। তাঁদের মতে, স্নান যাত্রায় ১০৮ ঘড়া জলে স্নান করে জগন্নাথদেব জ্বরে পড়েন এবং নির্জনে থাকেন।
জ্বর থেকে সেরে উঠে মুখের স্বাদ বদলাতে তিনি নোনতা খাবারের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তাই পাপড় ভাজার সঙ্গে জগন্নাথদেবকে মিষ্টি হিসেবে জিলিপি দেওয়া হয়। যদিও জগন্নাথদেবকে যে ৫৬ ভোগ দেওয়া হয় তাতে এই দুই খাবারের উপস্থিতি দেখা যায় না।
তবুও বাংলার মেলা সংস্কৃতিতে দিব্যি জায়গা করে নিয়েছে মূলত উত্তর ভারতীয় খাবার পাপড় এবং আফগানিস্তান থেকে মোগল আমলে ভারতে এসে জনপ্রিয় হওয়া খাবার জিলিপি। কাঁচামালের দাম বাড়ায় বর্তমানে জিলিপি এবং পাপড়েরও দাম বেড়েছে। তবে অনেক বিক্রেতারই অভিযোগ, বাঙালি এখন আর দামের কারণে নয় স্বাস্থ্যের কারণে ‘ডিপ ফ্রাই’ খাবার পাপড় আর জিলিপি অনেকটাই এড়িয়ে চলতে শুরু করেছেন।
তার সঙ্গে বাঙালির ঘরে ঘরে এখন সুগার-প্রেসারের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে রথ হোক বা অন্য কোনও মেলা এখনও সেখানে পাঁপড় এবং জিলিপি দেদার বিক্রি হয়।
বহরমপুর কাশিমবাজার এলাকার বাসিন্দা সোমনাথ দাস সারা বছরই জেলার বিভিন্ন প্রান্তে মেলায় গিয়ে জিলিপি-পাপড় এবং অন্যান্য তেলেভাজার দোকান দিয়ে সংসার চালান।
তিনি বলেন, ‘রথের মতো দু-এক দিনের মেলা হলে আমরা কেবলমাত্র কলাইয়ের ডালের এবং বেসনের জিলিপি তৈরি করি। যেকোনও মেলা মানেই পাপড় এবং জিলিপির চাহিদা থাকবেই। তবে যে মেলাগুলো বেশি দিন ধরে চলে সেখানে আমরা নানা ধরনের জিনিস তৈরির চেষ্টা করি।’ বহরমপুর একটি রথের মেলায় জিলিপি এবং পাঁপড় ভাজা বিক্রি করতে এসে শান্তা রানা বলেন, ‘এক সময় সব মেলায় প্রচুর পাপড় এবং জিলিপি বিক্রি হত। তবে এখন ঘরে ঘরে সুগারের রোগী বেড়ে যাওয়ায় বিক্রি আমাদের কিছুটা কমেছে।’
তিনি জানান, ‘রথের মেলায় এখন নতুন করে মালপোর চাহিদা বেড়েছে। এছাড়াও প্রচুর মানুষ রথের মেলায় এসে বাদাম ভাজা খাওয়ার আগ্রহ দেখান।’