• দ্বিখণ্ডিত তৃণমূল, সুযোগ পেয়েই দল 'ভরছে' সিপিএম!
    আজকাল | ১৭ জুলাই ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁ বিধানসভার সোনাপুকুর-শংকরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঝুজুরগাছা এলাকায় এক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে গেল। সেখানে আয়োজিত সিপিএম-এর একটি সভায় তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে প্রায় শতাধিক কর্মী-সমর্থক বাম শিবিরে যোগ দিলেন। পঞ্চায়েত ভোটের আগে নিচুতলার এই দলবদল স্বাভাবিকভাবেই মিনাখাঁ এলাকায় সিপিএম-এর ঘরে বড়সড় ‘অক্সিজেন’ এনে দিল, আর অন্যদিকে কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে ফেলল শাসকদলকে।

    তৃণমূল ত্যাগী কর্মী ও স্থানীয় সিপিএম নেতৃত্বের দাবি, শাসকদলের অন্দরে চলা লাগাতার দুর্নীতি এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই সাধারণ কর্মীদের এই মোহভঙ্গ। দলবদলকারীদের মতে, তৃণমূল এখন স্পষ্ট দুটি ভাগে বিভক্ত— একদল মমতা ব্যানার্জির অনুগামী, আর অন্য দলটির ঝোঁক ঋতব্রত ব্যানার্জির শিবিরের দিকে। দলের বড় বড় নেতারা যখন এই দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত, তখন নিচুতলার সাধারণ কর্মীরা চরম দিশাহীনতায় ভুগছিলেন। শেষমেশ তাই আর কোনো শিবিরে না গিয়ে, সিপিআইএমের নীতি ও আদর্শের ওপর আস্থা রেখে লাল পতাকাকেই বেছে নিলেন তাঁরা। বাম নেতৃত্বের আশা, এই যোগদানের ফলে আগামী দিনে মিনাখাঁ এলাকায় তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত হবে। এই বিষয় জেলার সিপিএম নেতা তথা রাজারহাট- নিউ টাউন বিধানসভার প্রার্থী সপ্তর্ষি দেব জানান, "তৃণমূল তো বিরোধী দলের কোনও ভূমিকাই পালন করছে না. মানুষ তাই তাদের লড়াইয়ের প্রতীক বেঁচে নিচ্ছেন।" তৃণমূলের মধ্যেই দুই শিবির প্রসঙ্গে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, "দুটোই বাজে তৃণমূল।"

    সদ্য ঘাসফুল শিবির ছেড়ে সিপিএমে যোগ দেওয়া মণিরুল মোল্লা নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “এতদিন যেখানে ছিলাম, সেখানে কোনও  সম্মান পাইনি। আজ এই দলে এসে সত্যিই খুব ভালো লাগছে, যে সম্মানটা পাওনা ছিল তা এখানে এসে পেলাম।” অন্যদিকে, দলবদলকারীদের স্বাগত জানিয়ে সিপিএম নেতা রাজু আহমেদ বলেন, “এই মানুষগুলো আসলে আগে আমাদের সঙ্গেই ছিলেন। কিন্তু তৃণমূলের লাগামহীন অত্যাচার আর ভয়ের পরিবেশের কারণে বাধ্য হয়ে ওদলে গিয়েছিলেন। এখন তো তৃণমূলের সেই দলটাই আর নেই, ভেঙে দু-টুকরো। তাই সাধারণ কর্মীরা বাঁচার রাস্তা খুঁজছিলেন, আর এই কঠিন সময়ে মানুষের সবচেয়ে বড় আশ্রয়ের নাম যে লাল পতাকা, তা আজ আবারও প্রমাণিত হলো।” তিনি আরও জানান, শুধু মিনাখাঁ নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষ এখন কৃষক সভা, সিআইটিইউ বা ছাত্র-যুব সংগঠনের মাধ্যমে দলে দলে বামপন্থার দিকে এগিয়ে আসছেন।
  • Link to this news (আজকাল)