এক একদিন এক একজন ছাড়ছেন মমতা শিবির। ঠিক তার পরেই, কর্মী-সমর্থকদের যেন আরও জোটবদ্ধ থাকার বার্তা দিচ্ছেন মমতা ব্যানার্জি। মদন মিত্র সঙ্গত্যাগ করার পরেও লাইভে এসেছিলেন। ঠিক তার পরের দিনেই আবার কোয়েলের ইস্তফা। আবার লাইভে এলেন মমতা। কোয়েল প্রসঙ্গে বার্তা দিলেন। সঙ্গেই বললেন, 'যাঁদের যাঁদের যাওয়ার আছে আরও, বিজেপির চাপে, পুলিশের চাপে, মাথা নত করার চাপে, ইডি-সিবিআইয়ের চাপে, সিআইডি'র চাপে, আইসি-ওসির চাপে, প্লিজ ২১ জুলাইয়ের আগে, যাঁর যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার, যাঁরা যাঁরা বাঁচতে চান জীবনে, লোটা-কম্বল নিয়ে, তাঁরা দয়া করে যেখানে ইচ্ছা যান বিজেপির কথা শুনে। দয়া করে আমরা যে দল তৈরি করেছি, তাতে কলঙ্ক লিপ্ত করবেন না।'
সংবিধান হাতে নিয়েই এদিন তিনি লাইভে বসেন। সংবিধানের প্রসঙ্গ তুলেও বলেন, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, তাতে একটুও দুর্বল হবে না মমতা-তৃণমূল। প্রসঙ্গ তুলে আনলেন শহিদ পরিবারগুলিকেও। শিবির ভাগ হয়েছে, শহিদ পরিবারগুলি এবার ২১ জুলাই কোন শিবিরের মঞ্চে থাকবে? জল্পনা জোর তা নিয়েই। মমতা যেন এদিন সেই প্রসঙ্গই তুলে আনলেন। বদলের বাংলায় বদলে যাওয়া পরিস্থিতিতেও 'সাময়িক' উল্লেখ করে, সব কাটিয়ে ওঠার বার্তাও দিলেন। মমতা বলেন, 'ভয় দেখাচ্ছে, সাময়িক। সন্ত্রাস, সাময়িক, টাকার লোভ, সাময়িক, এজেন্সির লোভ সাময়িক। আমরা কিন্তু অমায়িক। আমরা আপনাদের ভুল বুঝছি না। আমরা বুঝতে পারছি, আপনারা অনেক ঘেরাটোপে আছেন। আপনারা আমাদের সঙ্গে এবছর থাকলেন বা না থাকলেন,হৃদয় জুড়ে আছেন।'
তবে এসবের মাঝেই, একপ্রকার বড় ইঙ্গিতও দিলেন মমতা। বললেন, 'দিল্লি টলোমলো হলেও, এখানে কিন্তু ঢলোমলো হয়ে যাবে।' তারপরেই বলেন, 'যারা আজও যাচ্ছে, তারা কিন্তু আমাদের সঙ্গে গোপনে গোপনে যোগাযোগও রাখছে। কেউ ভয় সহ্য করতে পারে, কেউ পারে না। কেউ আত্মরক্ষা করতে পারে, কেউ পারে না। আমারা মাথানিচু করতে পারি না বলেই, আমাদের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। যা করেছেন ভাল করেছেন, ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।'
২১ জুলাই যে নেত্রী একা লড়াইয়ের ডাক দিচ্ছেন, এদিন আরও স্পষ্ট করেন তা। বলেন,'২১ জুলাই নতুন করে পথচলা হবে। তাতে কে আসল, না আসল আমার কিছু যায় আসে না। আমরা যারা থাকব, তারাই স্বর্ণখনি। তাঁরাই আগামী দিন নতুন করে পথ চলা শুরু করবেন। ১৯৯৭-এর প্রসঙ্গ টেনে, এদিনও মমতা বলেন, সেদিন যদি নতুন করে পথচলা শুরু করতে পারেন, পারবেন ২০২৬-এও।