• ৯ বছরেও জুটল না মনের মতো জীবনসঙ্গী, ম্যাট্রিমনি সংস্থাকে ৮,০০০ টাকা জরিমানা ক্রেতা আদালতের
    এই সময় | ১৭ জুলাই ২০২৬
  • ‘মন্দ নয়, সে পাত্র ভালো...’, আদতে সে ‘সৎপাত্র’ই। কিন্তু সুকুমার রায়ের ‘গঙ্গারাম’-এর মতো পাত্র না হলেও ​৯ বছর ধরে অপেক্ষার পরেও মেলেনি মনের মতো জীবনসঙ্গী। বৃদ্ধ বাবা-মা আশায় বুক বেঁধেছিলেন, ধুমধাম করে ছেলের বিয়ে দেবেন। কিন্তু ঘটকালি সংস্থার চরম উদাসীনতায় শেষ পর্যন্ত ভেস্তে গেল সেই স্বপ্ন। সর্বগুণ সম্পন্ন, লক্ষ্মীমন্ত, সুযোগ্য পাত্রীর খোঁজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও হতাশ করেছে ম্যাট্রিমনি সাইট। জীবনের গোল্ডেন টাইম, নয় বছর নষ্ট করার ও পরিষেবায় গাফিলতির অভিযোগে একটি ম্যাট্রিমনি ব্যুরোর গ্রাহককে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিল কেরালার জেলা ক্রেতা সুরক্ষা আদালত।

    কেরালার কন্নুর জেলা কনজ়িউমার ডিসপিউটস কমিশন (Kannur District Consumer Disputes Commission) এই রায় দিয়েছে। অভিযোগকারী পেশায় নার্সিং কলেজের অধ্যাপক। নয় বছর ধরে অপেক্ষা করিয়ে রেখেও উপযুক্ত পাত্রীর খোঁজ দিতে পারেনি ম্যাট্রিমনি ব্যুরো। ঘটকালিতে ব্যর্থ হলেও টাকা নিতে ছাড়েনি। পুরো বিষয়টি শুনে আদালত ওই ঘটকালি সংস্থাকে রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ ৩,০০০ টাকা ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি মানসিক যন্ত্রণার জন্য ৩,০০০ টাকা এবং মামলার খরচ হিসেবে ২,০০০ টাকা—সব মিলিয়ে মোট ৮,০০০ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

    ​জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালে কেরালার ওই নার্সিং কলেজের অধ্যাপক বিজ্ঞাপন দেখে একটি ঘটকালি সংস্থায় যোগাযোগ করেন। বিয়ের জন্য উপযুক্ত পাত্রী খুঁজে পাওয়ার আশায় তিনি নিজের বায়োডাটা জমা দেন এবং রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ ৩,০০০ টাকাও জমা দেন।

    ​সংস্থাটির পক্ষ থেকে তাঁকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে, কেরালার কাসারগড় এলাকার এক উপযুক্ত পাত্রীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পরে ব্যুরো আর কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। দীর্ঘ ৯ বছর ধরে প্রতি বছরই তারা নতুন নতুন আশ্বাস দিয়ে গিয়েছে, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই করেনি। অধ্যাপকের প্রোফাইলটি সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও তাঁকে কোনও ভালো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি।

    প্রতারিত অধ্যাপক পাত্র কমিশনকে আরও জানান যে, তাঁর বয়স্ক বাবা-মা দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিয়ের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু সে আশা পূর্ণ হয়নি। পাত্র বলেন, তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মা অধীর আগ্রহে তাঁর বিয়ের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু উপযুক্ত পাত্রী খুঁজে না পাওয়ার মানসিক যন্ত্রণার মধ্যেই গত ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান অধ্যাপকের বাবা। বর্তমানে তাঁর মা-ও অত্যন্ত অসুস্থ। তিনি তাঁর বিয়ের আশা নিয়েই বেঁচে রয়েছেন। অভিযোগ, ব্যুরোর পক্ষ থেকে একটি উপযুক্ত প্রস্তাবের ব্যবস্থা করতে না পারার কারণে ও দীর্ঘ অপেক্ষার ফলে তিনি চরম মানসিক যন্ত্রণা ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন।

    ঘটকালি সংস্থার এই অপেশাদার আচরণ ও ক্রমাগত মিথ্যা আশ্বাসের কারণে ওই অধ্যাপক তীব্র মানসিক অবসাদ এবং আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। অবশেষে কোনও উপায় না দেখে তিনি ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।

    ​কমিশন বলে, ‘ওই ম্যারেজ ব্যুরোর পক্ষ থেকে কমিশনে কেউ হাজির হয়নি এবং নিজেদের পক্ষে কোনও প্রমাণও পেশ করেনি। তাই অভিযোগকারীর ক্ষয়ক্ষতি ও মানসিক যন্ত্রণার দায় সরাসরি তাদের ওপরই বর্তায়।’ ম্যারেজ ব্যুরোর পক্ষ থেকে কেউ শুনানিতে অংশ না নেওয়ায় কমিশন একতরফা রায় দেয়।

    আদালতের পক্ষ থেকে যে নির্দেশগুলো দেওয়া হয়েছে—

    ​এ ছাড়া আদালত এও জানিয়েছে, এই রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে ম্যারেজ ব্যুরোকে এই টাকা পরিশোধ করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা দিতে ব্যর্থ হলে, নির্দেশ জারির দিন থেকে সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করা পর্যন্ত বার্ষিক ৯ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে।

    এই রায় দেশের সমস্ত ম্যাট্রিমনিয়াল বা ঘটকালি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর জন্য একটি বড় বার্তা। এটি স্পষ্ট করে দেয় যে, বিয়ের ঘটকালি সংস্থাগুলোও ক্রেতা সুরক্ষা আইনের আওতাধীন। গ্রাহকদের থেকে টাকা নিয়ে প্রতিশ্রুতি মতো পরিষেবা না দিলে বা অবহেলা করলে তাদেরও আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

  • Link to this news (এই সময়)