কালীঘাট তৃণমূলের ভাঙন রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনই কোনও না কোনও নেতা হয় পদত্যাগ করছেন, না হয় ভিন্ন শিবিরে নাম লেখাচ্ছেন। সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বৃহস্পতিবার ফেসবুক লাইভে এসে ফের বার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার বক্তব্য, ‘যাঁরা যাওয়ার তাঁরা ২১ জুলাইয়ের আগেই চলে যান।’ এই বছরের ২১ জুলাইয়ের পর থেকেই নতুন যাত্রা শুরু হবে বলে দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, মমতার দীর্ঘদিনের সঙ্গী কামারহাটির মদন মিত্র ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালেই জানা যায়, রাজ্যসভার সাংসদ কোয়েল মল্লিক পদত্যাগ করেছেন। শুধু তাই নয়, বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখাও করেছেন তিনি। এই অবস্থায় একটি ভিডিয়ো বার্তায় মমতা বলেন, ‘যদি আরও কারও যাওয়ার থাকে, বিজেপির চাপে, পুলিশের চাপে, কোর্টের চাপে, মাথানত করার চাপে, ইডি-সিবিআইয়ের চাপে, আইসি-ওসির চাপে, তাঁদের অনুরোধ করছি, যাঁর যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার, যাঁরা যাওয়ার ২১ জুলাইয়ের আগে চলে যান। লোটা-কম্বল নিয়ে যেখানে ইচ্ছে চলে যান।’
মমতাপন্থী শিবিরকে ২১ জুলাই বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে কর্মসূচি করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। কর্মী, নেতারা তো বটেই, শহিদ পরিবারের সদস্যরা এ বার কোন কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন, তা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে। সেই বিষয়টি নিয়েও এ দিন বড় অভিযোগ তোলেন মমতা। তাঁর কথায়, ‘আমি শুনেছি, ২১ জুলাইয়ের শহিদ পরিবারগুলোকে পুলিশ থেকে বলে দেওয়া হচ্ছে, এ দিকে নয়, ও দিকে যাও। অর্থাৎ বিজেপি স্পন্সর্ড শিবিরের দিকে যাও। তাদের নাকি অনেক বড় উপহার দেওয়া হবে। আমরা বিগত ৪০ বছর তাঁদেরকে চাকরি দেওয়া শুরু করে, যেটুকু দেওয়ার সেটুকু দিয়েছি।’ সেই পরিবারের সদস্যরা এমত অবস্থায় ভিন্ন শিবিরের (ঋতব্রত শিবির) কর্মসূচিতে যাবেন বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
ইতিমধ্যেই বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী ৬৫-এর বেশি বিধায়ক ঋতব্রত শিবিরের দিকে পা বাড়িয়েছেন। ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জন সাংসদ NCPI নামে নতুন দলে যোগদান করেছেন। পদত্যাগ করেছেন চার জন রাজ্যসভার সাংসদ। এর পরেও আরও কিছু নেতা বা জনপ্রতিনিধি মমতার সঙ্গ ছাড়বেন? সেই আশঙ্কাই করছেন মমতা? আরও দুর্বল হবে কালীঘাট শিবির। তাঁর বক্তব্য, ‘দয়া করে, আমরা যে দলটি তৈরি করেছি, তাকে কলঙ্কিত করবেন না। সংবিধান বলেই দিয়েছে, আপনারা যেতেই পারেন, তাতে আমরা একটুও দুর্বল হব না।’