• বুদ্ধি খাটিয়ে একাই চলবে ‘AI পা’! কাজ করবে কী ভাবে? দামই বা কত?
    এই সময় | ১৬ জুলাই ২০২৬
  • সুমন ঘোষ

    রাস্তা কি এবড়ো-খেবড়ো? সামনে কোনও গর্ত নেই তো? ঢালু পথ ধরে নামার সময়ে পা পিছলে পড়ে যাওয়ার ভয় নেই তো? সাধারণ মানুষ হাঁটার সময়ে এমন হাজার চিন্তা করে না। পরিস্থিতি অনুযায়ী আমাদের মস্তিষ্ক পা জোড়াকে নির্দেশ দিয়ে দেয়। কিন্তু দুর্ঘটনায় যাঁদের পা কাটা গিয়েছে, তাঁদের কী ভাবে নির্দেশ দেবে মস্তিষ্ক? অগত্যা কৃত্রিম পা লাগিয়ে পথ চলতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে বুক দুরুদুরু করে তাঁদের। এ বার সেই সমস্যার সমাধান করতে চলেছেন খড়্গপুর IIT-র গবেষকরা। তাঁরা এমন এক রোবোটিক কৃত্রিম পা তৈরি করেছেন, যা মানুষের মতোই বুদ্ধি খাটিয়ে পথ চলবে। রাস্তা দেখে সেই পা নিজেই ঠিক করবে কখন কেমন ভাবে পা ফেলতে হবে। বিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম দেওয়া হয়েছে, ‘আ কমপ্যাক্ট অ্যান্ড পাওয়ারড অ্যাঙ্কল-ফুট প্রস্থেটিক ডিভাইস’। গবেষকদের দাবি, এমন AI প্রযুক্তির পা ভারত তো বটেই, গোটা বিশ্বেও এই প্রথম তৈরি হলো।

    মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক দিলীপকুমার প্রতিহার এবং তাঁর গবেষক ছাত্র বিদ্যাপতি কুমারের হাত ধরে এই অসাধ্য সাধন হয়েছে। তাঁদের মূল লক্ষ্যই ছিল এমন একটা পা বানানো, যা সব ধরনের রাস্তার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। এই AI পায়ের পাতায় বসানো থাকছে বিশেষ সেন্সর। আর গোড়ালি ও হাঁটুর মাঝে থাকছে একটি হেলিক্যাল স্প্রিং, যা শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করবে। আর পুরো ব্যাপারটিকে সামলানোর জন্য হাঁটুতে থাকছে একটি মোটর। সেই মোটরকে আবার ব্যাক-স্টেজ থেকে রিমোট কন্ট্রোলারের সাহায্য নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

    গবেষকরা জানিয়েছেন, এই AI পা লাগিয়ে যখন কেউ রাস্তায় বেরোবেন, তখন পায়ের পাতার সেন্সর মাটির হালহকিকত পলকের মধ্যে মেপে নেবে। সেই খবর নিমেষে চলে যাবে হাঁটুর মোটরের কাছে। তখন মাইক্রো প্রসেসর হিসেব কষে মোটরকে সিগন্যাল দেবে যে— এখন কী জোরে হাঁটতে হবে, নাকি গর্তের জন্য সাবধানে পা ফেলতে হবে। এমনকি, ভারসাম্য ধরে রাখতে গোড়ালি কত ডিগ্রি ঘুরবে, তাও নিজে নিজেই ঠিক করে নেবে ভিতরের স্প্রিং। ফলে ব্যবহারকারীর পড়ে যাওয়ার বা হোঁচট খাওয়ার আশঙ্কা থাকবে না।

    অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি এই স্মার্ট পায়ের ওজন প্রায় সাড়ে ৫ কেজি। আর এটি বানাতে খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। তবে খড়্গপুরের বিজ্ঞানীরা এখানেই ফুলস্টপ বসাচ্ছেন না। অধ্যাপক দিলীপকুমার প্রতিহার বলেন, ‘অন্য হালকা কাঁচামাল দিয়ে এর ওজন কমিয়ে ৩-৪ কেজির মধ্যে আনার চেষ্টা চলছে। বাণিজ্যিক ভাবে যখন এই পা তৈরি করা শুরু হবে, তখন এর দাম কমে এক ধাক্কায় অর্ধেক হয়ে যাবে।’ ফলে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই চলে আসবে এই ম্যাজিক পা।

    অধ্যাপক দিলীপকুমার প্রতিহার বলেন, ‘এই একই প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে কনুই থেকে আঙুল পর্যন্ত রোবোটিক হাতও তৈরি করা সম্ভব। এখনও সেই কাজ শুরু না হলেও, আগামী দিনে এমন স্মার্ট হাত বানানোর পরিকল্পনা রয়েছে।’ এই প্রযুক্তি যে আগামী দিনে বহু মানুষকে নতুন, স্বনির্ভর ও স্বাধীন জীবন উপহার দেবে, তা বলাই বাহুল্য।

  • Link to this news (এই সময়)