• জার্মানি থেকে জাহাজে এসেছিল ৮০ মণ পিতল, লঙ্কা ব্যবসায়ী শুরু করা রথযাত্রা আজও অমলিন
    News18 বাংলা | ১৬ জুলাই ২০২৬
  • সময় এগিয়েছে আপন ছন্দে, বদলেছে সমাজ-সভ্যতা। কিন্তু দাসপুরের তিয়রবেড়িয়ার শতাব্দীপ্রাচীন রথযাত্রায় আজও অমলিন ঐতিহ্যের ছোঁয়া। জার্মানি থেকে জাহাজে চেপে আসা পিতলে তৈরি ৮০ মণের বিশাল রথে আজও সগৌরবে আসীন হন রাধাকৃষ্ণ। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার অন্যতম প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী এই রথ ঘিরে গ্রামীণ মানুষের আবেগ আজও অটুট।

    ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, এই রথের প্রবর্তক ছিলেন এলাকার বিত্তবান ব্যবসায়ী ত্রৈলোক্যনাথ সামন্ত। কলকাতার বড়বাজারে ব্যবসার পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুরের মালিদা গ্রামে তাঁর বিশাল জমিদারি ছিল। এক ব্রাহ্মণ পরিবারের কূলদেবতা কষ্টিপাথরের কৃষ্ণমূর্তি ‘মদন গোপাল জিউ’-এর আরাধনা শুরু করেন তিনি। পরে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন অষ্টধাতুর রাধা এবং রঘুনাথ জিউর শালগ্রাম শিলা। এই আরাধ্য দেবতাদের জন্যই রথযাত্রার সূচনা করেন ত্রৈলোক্যনাথ। লোকমুখে আজও ঘোরে সেই বিখ্যাত প্রবাদ, লঙ্কা বেচে রথ কিনলেন ত্রৈলোক্যনাথ।”

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রথটি নিখুঁতভাবে নির্মাণের জন্য সুদূর জার্মানি থেকে জাহাজে করে পিতল আনা হয়েছিল। ২৫ ফুট উঁচু এই রথের রয়েছে পাঁচটি সুদৃশ্য চূড়া এবং পিতলের তৈরি দুটি ঘোড়া। প্রাচীনকালে তোপ বা কামান দেগে এই রথের চাকা গড়ানোর সূচনা হত। কালের নিয়মে কামানের গর্জন আজ থামলেও, রীতিনীতিতে কোনও বদল আসেনি। বর্তমানে সামন্ত পরিবারের ষষ্ঠ প্রজন্ম বংশপরম্পরায় নিষ্ঠার সঙ্গে এই ধর্মীয় রীতি পালন করে চলেছেন। পুরীর উৎকল রীতি মেনেই ঠিক ন’দিনের মাথায় এখানে উল্টোরথ অনুষ্ঠিত হয়।

    এমনিতেই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় পিতলের রথ খুব একটা চোখে পড়ে না। তাই তিয়রবেড়িয়ার এই পিতলের রথের টানে প্রতি বছর রথযাত্রার দিন ১০-১৫টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমান। রথকে কেন্দ্র করে বসে বিশাল গ্রামীণ মেলা, যা এলাকার অন্যতম বড় উৎসব। রথযাত্রার পাশাপাশি জন্মাষ্টমীতেও থাকে বিশেষ আয়োজন। আধুনিকতার দাপটে অনেক পুরনো রীতি আজ হারিয়ে যেতে বসেছে ঠিকই, কিন্তু তিয়রবেড়িয়ার এই পিতলের রথ আজও স্বমহিমায় তার শতবর্ষের ইতিহাস আর পরম্পরাকে বহন করে চলেছে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)