পুরীধাম থেকে আনা দারুব্রহ্ম জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রার নতুন বিগ্রহ এবং তিনটি সুবৃহৎ নতুন রথকে কেন্দ্র করে এ বছর তমলুকের ঐতিহ্যবাহী মহাপ্রভু মন্দিরে রথযাত্রা মহোৎসব ঘিরে সাজ সাজ রব। বৃহস্পতিবাপ রথযাত্রার শুভ সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
রথযাত্রার সূচনায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমার রাজনৈতিক মত, পথ বা পদ্দোন্নতির সঙ্গে এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই। আমি একজন ভক্ত হিসেবে গত দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রায় আসছি। আমি সনতনী, আমি ভারত মাতার সন্তান, আমি রাধা-মাধবের শিষ্য, আমি নিজেকে জগন্নাথদেবের দাস মনে করি, তাই প্রতিবার এই রথযাত্রায় অংশগ্রহণ করি। এই পরিবারের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তাঁরা আমাকে প্রতি বছর আমন্ত্রণ জানায়।” এরপর ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনির মধ্য দিয়ে তিনি রথযাত্রার সূচনা করেন।
এবারের রথযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ পুরী থেকে আনা জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রার সুবৃহৎ দারুব্রহ্ম বিগ্রহ এবং তাঁদের জন্য নির্মিত প্রায় ১৫ থেকে ১৭ ফুট উচ্চতার তিনটি নতুন রথ। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, অতীতের তুলনায় এবার রথযাত্রা আরও জাঁকজমকপূর্ণ হবে।
প্রাচীন তাম্রলিপ্ত ধামেশ্বর স্বয়ম্ভূ শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু মন্দিরে ২৯ জুন থেকে শুরু হয়েছে ৩১ দিনব্যাপী রথযাত্রা মহোৎসব, যা চলবে ২৯ জুলাই পর্যন্ত। এই সময় প্রতিদিন ভক্তদের জন্য পুরীধামের মহাপ্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
মহাপ্রভু মন্দির থেকে রথ বেরিয়ে তমলুক পুরসভা, মা বর্গভীমা মন্দির, বড়বাজার, নিমতলা, হাসপাতাল মোড় ও মানিকতলা হয়ে তমলুক রাজবাড়ির মাসির বাড়ি পর্যন্ত যাবে। উল্টোরথের দিন একই পথে শহর পরিক্রমা করে ফের মন্দিরে ফিরবেন জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রা।