বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে চলেছে ইংল্যান্ড আর আর্জেন্টিনা। যা নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে। এই দুই দেশের ফুটবল যুদ্ধ আর শুধু নব্বই মিনিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এই লড়াইয়ের ব্যাপ্তি সুবিশাল। আকর্ষণীয় বিষয় হল, আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে ২০৫টি ম্যাচ খেললেও কখনই ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলেননি লিওনেল মেসি। কেরিয়ার সায়াহ্নে এসে ‘নতুন শত্রু’র মুখোমুখি হবেন মেসি।
এখনও পর্যন্ত ইংল্যান্ড আর আর্জেন্টিনা ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে। যার মধ্যে ইংল্যান্ড জিতেছে ছ’বার, আর্জেন্টিনা তিনবার। পাঁচটা ম্যাচ ড্র। বিশ্বকাপে দুই দলের পরিসংখ্যানে এগিয়ে ইংল্যান্ড। পাঁচবারের মধ্যে তারা জিতেছে তিনবার। আর্জেন্টিনা দু’বার। বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত দুই দলের সাক্ষাতে কী ঘটেছে, সেটাই তুলে দেওয়া হল..
১৯৬৬
ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনার ফুটবল সম্পর্কের বৈরিতা শুরু ১৯৬৬ বিশ্বকাপ থেকে। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক অ্যান্তোনিও রাত্তিনকে জার্মান রেফারি মাঠ থেকে বেরিয়ে যেতে যাওয়ার নির্দেশ দেন। ফুটবলে তখন লাল কিংবা হলুদ কার্ডের প্রচলন হয়নি। রেফারি আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে মার্চিং অর্ডার দেন। রাত্তিন মাঠ থেকে বেরিয়ে যেতে চাননি। পুলিশ এসে রাত্তিনকে মাঠ থেকে বের করে নিয়ে যান। কোয়াটার ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে এক গোলে হারায় ইংল্যান্ড।
১৯৮৬
ওই বিতর্কের পর কোয়ার্টার ফাইনালে ফের মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা আর ইংল্যান্ড। এই ম্যাচে অবশ্য দিয়েগো মারাদোনারা ইংল্যান্ডকে হারিয়ে মধুর প্রতিশোধ নেয়। এই ম্যাচেও বিতর্কমুক্ত ছিল না। প্রথমে মারাদোনার ‘হ্যান্ড অফ গড’-এর ঘটনা। তারপর ৫ জনকে কাটিয়ে দিয়েগোর সেই বিখ্যাত গোল। আসলে যেন ফকল্যান্ড যুদ্ধে ইংল্যান্ডের কাছে হারের জ্বালা জুড়িয়েছিল আর্জেন্টিনা।
১৯৯৮
প্রি-কোয়ার্টার যুদ্ধে ইংল্যান্ডকে টাইব্রেকারে হারায় আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময় ম্যাচের রেজাল্ট ছিল ২-২। হাফটাইমের ঠিক পর দিয়েগো সিমিওনের ট্যাকলে অতীষ্ঠ হয়ে তাঁকে লাথি মেরে বসেন ডেভিড বেকহ্যাম। সোজা লাল কার্ড। ১০ জনেও ইংল্যান্ড ম্যাচটা টাইব্রেকারে নিয়ে যায়।
২০০২
বিশ্বকাপে ফের মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা আর ইংল্যান্ড। এবার অবশ্য গ্রুপ পর্বে। ডেভিড বেকহ্যামের গোলে ইংল্যান্ড হারায় আর্জেন্টিনাকে। গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা।