• একই সংস্থাকে বারবার বরাত নয়! টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে কড়া গাইডলাইন নবান্নের
    প্রতিদিন | ১৬ জুলাই ২০২৬
  • দুর্নীতি ইস্যুতে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী! নিচ্ছেন জিরো টলারেন্স নীতি। এবার দরপত্র আহ্বান অর্থাৎ টেন্ডার নিয়ে কড়া অবস্থান নিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। বারবার একই  সংস্থাকে বরাত পাইয়ে দেওয়া, দরপত্র আহ্বান না করেই চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়া যাবে না বলে স্পষ্ট নির্দেশ জারি করল নবান্ন। দরপত্র বা টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ‌্য সরকারি দপ্তরগুলিকে এই নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ‌্য সরকার চায়, টেন্ডার প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ করতে। তার জন‌্যই এই নয়া গাইডলাইন তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। বুধবার মুখ‌্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের জারি করা এই বিজ্ঞপ্তি পৌঁছে গিয়েছে প্রতিটি দপ্তরে। 

    জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, দপ্তরগুলির ক্রয়কারী কর্তৃপক্ষকে বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত তিন মাস আগেই নতুন সংস্থা নির্বাচনের জন্য নতুন দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানরা বর্তমান চুক্তির সমস্ত বিষয় নিয়ে মাসিক পর্যালোচনা বৈঠক করবেন এবং চুক্তিগুলির তালিকা অর্থ দপ্তরের কাছে পাঠাবেন। কোনও সংস্থার চুক্তির মেয়াদ অনুমোদিতভাবে বাড়িয়ে দেওয়া কিংবা নতুন করে দরপত্র আহ্বানে দেরি করার বিষয়টিকে আর্থিক শৃঙ্খলার গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হবে বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে ওই নির্দেশিকা। শুধু তাই নয়, নেওয়া হবে ব্যবস্থাও।

    বর্তমান চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি বা রিনিউয়ালে বা পুর্নবীকরণের কোনও প্রস্তাব কোনও অবস্থাতেই বিবেচনা করা হবে না। সময়মতো নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ না করার অজুহাতে সংস্থার কাজের মেয়াদ বৃদ্ধি দেওয়াকে ‘অনিবার্য ঘটনা’ হিসেবে কোনওভাবেই মানা হবে না। নির্দেশাবলি কঠোরভাবে পালন হচ্ছে কি না, তা দেখার দায়িত্বে দপ্তরের বিভাগীয় প্রধান এবং অধীনস্ত শাখা বিভাগগুলির পদাধিকারীদের। এর অন‌্যথা হলে, তাঁরাই ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন বলে মুখ‌্যসচিবের নির্দেশে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। গাইডলাইনে মুখ‌্যসচিব জানিয়েছেন, লক্ষ্য করা গেছে যে, সরকারি দপ্তরগুলি এবং তাদের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভাগগুলি বিভিন্ন কাজের জন্য নিযুক্ত সংস্থাগুলির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে বারবার অর্থ দপ্তরের কাছে অনুমোদন চাইছে। এমনকি কোনও কোনও কর্তৃপক্ষ অর্থ দপ্তরের সঙ্গে পরমার্শ না করেই মেয়াদ বৃদ্ধির অনুমোদনও দিয়ে দিচ্ছে। মুখ‌্যসচিবের সাফ বার্তা, এ ধরনের কাজ সরকারের আর্থিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী। একইসঙ্গে দরপত্রের প্রতিয়োগিতার ক্ষেত্রেও তা স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতাকে ক্ষুণ্ণ করছে। রাজ‌্য সরকারের অধীনস্ত সমস্ত স্থানীয় প্রশাসন, রাজ‌্য সরকারি অধীনস্ত পিএসইউ, স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা এবং অন‌্যান‌্য আধা সরকারি সংস্থাগুলি এর আওতায় থাকবে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)