শুনশান আদালত কক্ষ। এজলাস বসবে। তবে বিচারক তখনও আসেননি। হাজির হননি বাদী-বিবাদী পক্ষের কেউই। ঠিক সেই সময়ে ধীরে ধীরে পা ফেলে এজলাসে ঢুকলেন বছর ৬৫-র এক বৃদ্ধা। মাথায় ঘোমটা। বিড়বিড় করতে করতে কোমরের পুঁটলি থেকে কিছু একটা বের করে ছুড়ে দিলেন বিচারকের আসনের দিকে। তার পরে ধীর পায়ে যেমন এসেছিলেন সেভাবেই বেরিয়ে গেলেন।
গত ৯ জুলাই কর্নাটকের চিক্কাবল্লাপুরের আদালতে এই ঘটনা প্রথমে টের পাননি কেউই। পরে আদালতের কর্মীরা দেখেন, বিচারকের চেয়ার-টেবিলে সাদা সর্ষে পড়ে রয়েছে। ব্যাপারটা কী? সন্দেহ হয় তাঁদের। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা বিচারককে পুরো বিষয়টা জানান। হতভম্ব হয়ে যান বিচারকও। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন তিনি। তখনই বিষয়টা সামনে আসে।
সিসিটিভি ফুটেজে মঞ্জুলা দেবী নামে এক বৃদ্ধাকে চিহ্নিত করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই বিচারকের এজলাসে জমি সংক্রান্ত একটি মামলা রয়েছে মঞ্জুলার। অভিযোগ, সেই মামলার রায় যাতে তাঁর দিকে আসে, সেই জন্য খোদ বিচারককেই ‘কালা জাদু’ করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। এর পরেই গত ১১ জুলাই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই আদালত চত্বর থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম— সর্বত্র জোর চর্চা চলছে মঞ্জুলাকে নিয়ে।
আদালতের প্রধান প্রশাসনিক আধিকারিকের অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয়েছে তদন্ত। মঞ্জুলার বিরুদ্ধে কর্নাটক প্রিভেনশন অ্যান্ড ইরাডিকেশন অফ ইনহিউম্যান ইভিল প্র্যাকটিসেস অ্যান্ড ব্ল্যাক ম্যাজিক অ্যাক্ট, ২০১৭-এর আওতায় দায়ের হয়েছে মামলা। সোমবার তাঁকে আদালতে তোলা হলে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
পুলিশের দাবি, অন্ধ বিশ্বাস থেকেই বিচারকের উপরে ‘কালা জাদু’ করার চেষ্টা করেছিলেন মঞ্জুলা। ভেবেছিলেন, এতে রায় তাঁর পক্ষে যাবে। তবে এই ঘটনায় আদালতের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। একজন বৃদ্ধা কী ভাবে সবার নজর এড়িয়ে এজলাসে ঢুকে বিচারকের আসন পর্যন্ত পৌঁছে গেলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ এবং আদালত কর্তৃপক্ষ।