• ‘কলকাতার দরজা চিরকাল খোলা থাকুক ওঁর জন্য’, তসলিমার নির্বাসন ‘শাপমুক্তি’তে আবেগপ্রবণ চূর্ণী
    প্রতিদিন | ১৪ জুলাই ২০২৬
  • বদলের বাংলায় সংস্কৃতি জগতে সুখবর। দু’দশকের নির্বাসন অভিশাপ কাটিয়ে শেষমেশ ‘মুক্ত’ বাংলায় পা রাখতে চলেছেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। ২০০৭ সালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের আমলে তাঁকে কলকাতা থেকে বিতাড়িত হতে হয়েছিল। সেই ‘লজ্জা’ কাটিয়ে আবারও তিলোত্তমার পথে পা রাখবেন তসলিমা নাসরিন। এমন আবহে লেখিকার নির্বাসন ‘শাপমুক্তি’তে আবেগপ্রবণ ‘পর্দার তসলিমা’ চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়।

    ২০১৪ সালে ‘নির্বাসিত’ তৈরি করেছিলেন চূর্ণী। পরিচালনার পাশাপাশি অভিনয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছিলেন এক নির্বাসিত লেখিকার যাপনের কথা। সেই বাংলা সিনেমার ঝুলিতে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্তিও ঘটে। এবার ছাব্বিশ সালে যখন সেই নির্বাসিত লেখিকাই এক যুগ বাদে কলকাতায় পা রাখতে চলেছেন, তখন এমন আনন্দঘন মুহূর্তে চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় যতটা উচ্ছ্বসিত, ততটাই আবেগপ্রবণ। সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল-এর তরফে যোগাযোগ করা হলে পরিচালক-অভিনেত্রী জানান, “যখন নির্বাসিত তৈরি করি, তখন জয় গোস্বামী একটা কথা লিখেছিলেন যে- ‘চূর্ণী কলকাতাকে গ্লানিমুক্ত করল।’ আজ এই খবর পেয়ে মনে হচ্ছে, কলকাতাকে গ্লানিমুক্ত করার ক্ষেত্রে একটা বিশাল পদক্ষেপ করা হল। যেদিন উনি কলকাতায় আসবেন, নিজের ইচ্ছেমতো থাকতে পারবেন, যেভাবে উনি কলকাতাকে আপন করে নিয়েছিলেন, সেভাবে যদি এই শহরও তসলিমাদিদিকে আপন করে নিতে পারে, সেদিনই এই বৃত্তটা সম্পূর্ণ হবে।”

    চূর্ণীর সংযোজন, “তসলিমা এই শহরে আসবেন কি আসবেন না, সেটা ওঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, কিন্তু কলকাতার দরজা যেন চিরকাল খোলা থাকে ওঁর জন্য।” তবে এক্ষেত্রে চূর্ণীর একটা আক্ষেপও রয়েছে। স্মৃতির সরণিতে হেঁটে তিনি মনে করলেন তসলিমার সর্বক্ষণের ছায়াসঙ্গীর কথা। চূর্ণীর সংযোজন, “মিনু তো নির্বাসনেই কাটিয়ে দিল। আমি তসলিমাদিদির ওখানে গিয়ে থেকেছি। দেখেছি, মিনু ওকে কীভাবে চোখে হারায়। ওদের বন্ডিংটা ভাবাই যায় না! কাজেই মিনুর তো আর ফেরা হল না। এত দেরি করে ফেললাম আমরা।”

    আগামী ১ আগস্ট রবীন্দ্রসদনে মৌলবাদ বিরোধী কবি-সাহিত্যিকদের এক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন ‘নির্বাসিত’ লেখিকা। কবিতা পাঠ করার কথা তাঁর। অনুষ্ঠানে থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। ফেসবুক পোস্টে এই সুখবর জানিয়েছেন তসলিমা নিজেই। ২০০৭ সালে তসলিমা ‘দ্বিখণ্ডিত’ উপন্যাসের প্রকাশ ঘিরে উত্তাল হয়ে ওঠে কলকাতা। কট্টরপন্থার বিরুদ্ধে তাঁর আগুনঝরা কলমের ‘খোঁচা’য় সংখ্যালঘু এলাকাগুলিতে তীব্র অশান্ত পরিবেশ হয়ে ওঠে। এতটাই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি যে তা সামলাতে সেনা নামাতে হয়েছিল। সেসময় রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তিনি তাঁর নিজস্ব বৃত্তের অর্থাৎ বামমনস্ক সাহিত্যিকদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে তসলিমা নাসরিনের বইটিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কলকাতা ছাড়তে বলা হয় তাঁকে। যে বামপন্থীরা ধর্মনিরপেক্ষ বলে গর্ববোধ করে, সেই সরকারের আমলে এমন এক নিদর্শন নিঃসন্দেহে বাংলার সাহিত্য জগতে অন্ধকার অধ্যায়। তবে এবার এক আলোকময় ঘটনার সূচনা হতে চলেছে বলেই আশাবাদী বাংলার সংস্কৃতিমহল।
  • Link to this news (প্রতিদিন)