• রাজ্যসভায় ‘অধরা মাধুরী’ ছুঁতে পারবে কি বিজেপি?
    আজকাল | ১৫ জুলাই ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাদল অধিবেশনের আগে রাজ্যসভায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গে পরাজয়ের পরে ডামাডোল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূলের অন্দরে। বিদ্রোহীদের ঝড়ে নাজেহাল। রাজ্যসভার তিন সাংসদ সুস্মিতা দেব, সুখেন্দুশেখর রায় এবং প্রকাশ চিক বরাইক পদত্যাগ করে বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন। সোমবার রাজ্যসভার নির্বাচনে তিনটি আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন তাঁরা। 

    আগামী ২৪ জুলাই তিনটি আসনে উপনির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে। তিন জনই জিতবেন যদি ধরে নেওয়া যায়, তাহলে লাভের গুড় খাবে বিজেপি। তিনটি আসন জিতলে রাজ্যসভায় বিজেপির আসন সংখ্যা দাঁড়াবে ১১৭। যা সর্বকালের সর্বোচ্চ। এনডিএ জোটের সাংসদ সংখ্যা দাঁড়াবে ১৫২। এর ফলে উচ্চকক্ষে জোটের অবস্থান আরও সুসংহত হবে। রাজ্যসভার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনী ১২৩ আসন। ম্যাজিক ফিগার থেকে বিজেপির মাত্র ছ’টি আসন কম রয়েছে। কোনও ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গেলে আর কোনও বিল পাশে বাধা থাকবে না বিজেপির।

    রাজ্যসভার সর্বোচ্চ অনুমোদিত সদস্য সংখ্যা ২৫০ জন, যার মধ্যে ভারতের রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত ১২ জন মনোনীত সদস্য রয়েছেন। বাকি সদস্যরা রাজ্যগুলির নির্বাচিত বিধায়কদের দ্বারা এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির বিধানসভার নির্বাচকমণ্ডলীর মাধ্যমে নির্বাচিত হন। রাজ্যসভায় কোনও একটি দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার শেষ নজিরটি ছিল ১৯৮৬ সালে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের কাছে উচ্চকক্ষ নিয়ন্ত্রণের মতো সংখ্যা ছিল। যদিও বিজেপি এখনও সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে পিছিয়ে আছে। কিন্তু এনডিএ-র হাতে প্রত্যাশিত ১৫২ আসনের শক্তি থাকায় রাজ্যসভায় আইন পাস করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনায় শাসক জোটের ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেবে।

    কাগজে-কলমে রাজ্যসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে এনডিএ পিছিয়ে থাকলেও, গুরুত্বপূর্ণ ভোটাভুটির সময় ইস্যুভিত্তিক সমর্থন অথবা আঞ্চলিক দলগুলি ভোটদানে বিরত থাকলেই এই ব্যবধান কমে আসতে পারে। এই ক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধনী বিলগুলি পাশ করাতে কম বেগ পেতে হবে বিজেপিকে। বাদল অধিবেশন কেন্দ্র ফের সীমানা পুনর্বিন্যাস, মহিলা সংরক্ষণের মতো সংবিধান সংশোধনী বিলগুলি পেশ করতে পারে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে এনডিএ জোটের দরকার ১৬৬টি ভোট। এই ক্ষেত্রে আঞ্চলিক দলগুলি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিতে পারে।

    যে দলগুলির অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, তাদের মধ্যে রয়েছে ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি। এদের চারজন রাজ্যসভা সাংসদ রয়েছেন। সীমানা পুনর্বিন্যাস বিল-সহ গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলিতে তাঁরা সরকারকে সমর্থন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ডিএমকে-র আটজন সাংসদ কেন্দ্রে পদক্ষেপকে সমর্থন করতে পারে অথবা ভোটদানে বিরত থাকতে পারে। বিজু জনতা দল (বিজেডি)নারী সংরক্ষণের সমর্থক। দলের পাঁচজন সাংসদ পক্ষে ভোট দিয়ে বা ভোটদান থেকে বিরত থেকে একটি ভূমিকা পালন করতে পারে। স্বতন্ত্র সাংসদ পরিমল নাথওয়ানি এবং এনসিপি-র (শারদ পাওয়ার গোষ্ঠী) একজন সাংসদও এই আইনকে সমর্থন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

     
  • Link to this news (আজকাল)