রাঢ়বঙ্গের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল পূর্ব বর্ধমানে। অভিযোগ, সোমবার গভীর রাতে মন্দিরের পশ্চিম দিকের প্রবেশদ্বারের তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকে দুষ্কৃতীরা। এর পরে দানবক্স ভেঙে নগদ অর্থ লুট করে পালায়। শুধু তাই নয়, দুষ্কৃতীরা মন্দিরের শাটার ভেঙে গর্ভগৃহে ঢোকার চেষ্টাও করেছিল বলে অভিযোগ। তবে এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের কোনও হদিশ মেলেনি। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার সকালে মন্দির খোলার সময় চুরির ঘটনা প্রথম নজরে আসে। ভাঙা তালা, তছনছ হওয়া দানবক্স দেখে হতবাক হয়ে যান মন্দিরের কর্মী ও সেবায়েতরা। খবর দেওয়া হয় বর্ধমান থানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গোটা এলাকা ঘিরে তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক ভাবে অনুমান, পরিকল্পনা করেই গভীর রাতে মন্দিরে ঢুকেছিল দুষ্কৃতীরা।
কত টাকা খোয়া গিয়েছে এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত ভাবে বলতে পারেননি সর্বমঙ্গলা মন্দিরের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সঞ্জয় ঘোষ। তাঁর কথায়, ‘একাধিক দানবাক্স ভেঙে টাকা নিয়ে পালিয়েছে দুষ্কৃতীরা। তবে কত টাকা খোয়া গিয়েছে, তা এখনই নিশ্চিত ভাবে বলা সম্ভব নয়।’ দানবাক্সের হিসাব মেলালে ক্ষতির পরিমাণ বোঝা যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। সঞ্জয়ের কথায়, ‘মূল মন্দিরে ঢোকার চেষ্টা করেছিল দুষ্কৃতীরা। এটা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।’
শতাব্দীপ্রাচীন সর্বমঙ্গলা মন্দির শুধু পূর্ব বর্ধমান নয়, গোটা রাঢ়বঙ্গের অন্যতম প্রধান শক্তিপীঠ হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিনই অসংখ্য ভক্ত এখানে পুজো দিতে আসেন। সেই মন্দিরেই চুরির ঘটনায় উদ্বিগ্ন ভক্তরা। মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য ফরেন্সিক সূত্রের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে বলে আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করার বিষয়েও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ।