কোনও পুজো কমিটির সভাপতি তিনি হচ্ছেন না বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্যে পালাবদলের পরে শহরের একের পরে এক নাম করা দুর্গাপুজো কমিটির মাথা-বদলের খবর সামনে আসছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে জোর জল্পনা, কলেজ স্কোয়্যারের পুজোর সভাপতি হচ্ছেন শমীক ভট্টাচার্য। আর এর পরেই ফেসবুকে পোস্ট করেন শমীক।
ফেসবুকে শমীক ভট্টাচার্য লেখেন, ‘কলেজ স্কোয়্যারের দুর্গাপুজোর সভাপতি আমি হচ্ছি না। শুধু কলেজ স্কোয়্যার, রাজ্যের কোনও দুর্গাপুজোর সভাপতি আমি হব না, কিংবা কোনও পুজোর পরিচালনার দায়িত্ব নেব না।’ শমীকের মতে, একজন বিধায়ক বা মন্ত্রী নিজের এলাকার কোনও পুজো কমিটির সভাপতি হতে পারেন— সেটা তাঁদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, রাস্তায় বেরিয়ে একের পর এক পুজোর দায়িত্ব রাজনৈতিক ব্যক্তি, বিধায়ক, সাংসদ বা রাজনৈতিক দলের নেতারা নিজেদের হাতে তুলে নেবেন।
গত কয়েক বছরে দুর্গাপুজোয় লেগেছে রাজনীতির রং। সরকারি অনুদান থেকে শুরু করে, নেতাদের কমিটিতে থাকা, সব মিলিয়ে পুজো হয়ে উঠেছে নেতা-মন্ত্রীদেরই। অন্তত নিন্দুকেরা তাই বলেন। যদিও বাংলায় পালাবদলের পরে এ বার প্রথম দুর্গাপুজো। তাতেও রাজনীতি মিশে যাবে কি না, তা সময়ই বলবে।
তবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ‘পুজো দখলের রাজনীতি’ বিজেপিতে নেই।’ শমীকের বক্তব্য, ‘দুর্গাপুজো সর্বজনের, কোনও রাজনৈতিক দলের নয়। পুজো কমিটিগুলির স্বাধীনতা, স্বতন্ত্রতা এবং সর্বজনীন চরিত্র অক্ষুণ্ণ থাকুক— এই বিশ্বাস থেকেই আমাদের এই সিদ্ধান্ত। উৎসবের আনন্দ মানুষের হাতে থাকুক, রাজনীতির দখলে নয়।’
যদিও ইতিমধ্যেই অরূপ-স্বরূপকে ‘আউট’ করে নিউ আলিপুরের সুরুচি সঙ্ঘের নতুন পুজো কমিটিতে সম্পাদক হয়েছেন সৌরভ শিকদার। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা এবং দমদম উত্তরের বিজেপি বিধায়ক। এতদিন এই পুজোর সভাপতি ছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস। এ বার নতুন কমিটি হলো। তাতেই এলেন সৌরভ।