• ‘না পোষালে চাকরি ছেড়ে দিন’, প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিয়ে চিকিৎসকদের কড়া ‘ওষুধ’ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
    প্রতিদিন | ১৩ জুলাই ২০২৬
  • সরকারি হাসপাতালের ডিউটি আওয়ার্সে কোনওভাবেই প্রাইভেট প্র্যাকটিস করা যাবে না। চিকিৎসকদের উদ্দেশে স্পষ্ট ও কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর। শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, “জনগণকে দেখার জন্য সরকার মাইনে দিচ্ছে আপনাকে। না পোষালে চাকরি ছেড়ে দিন।” এছাড়াও সরকারি হাসপাতালের শিক্ষক-চিকিৎসকদের আরও বেশি করে হাসপাতালমুখী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সপ্তাহে অন্তত ৯৬ ঘণ্টা হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রান্তিক পরিবারের মানুষরা আসেন। এমতাবস্থায় প্রতিদিন ১৩ ঘণ্টার বেশি সময় চিকিৎসকদের হাসপাতালে থাকার নিদান দিলেন মন্ত্রী। শিক্ষক চিকিৎসকদের প্রতি তাঁর বার্তা, “প্রফেসর, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হিসেবে মানুষ আপনাদের সম্মান করে। অনেক ডাক্তার নিজের নামের আগে প্রফেসর লেখার সুযোগ পান না। নিজের নাম এবং ডিগ্রির প্রতি সুবিচার করুন।” প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপকদের উদ্দেশ্য মন্ত্রী বলেন, “সপ্তাহে তিন-চার দিন হাসপাতালে না থাকলে, রোগীদের পাশাপাশি ছাত্রদের সঙ্গেও অবিচার করছেন।”

    তবে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সম্পূর্ণ বিরোধিতা করেননি স্বাস্থ্যমন্ত্রী। যাঁরা সরকারি হাসপাতালেই শুধুমাত্র রোগী দেখেন রাজ্য সরকার তাঁদের নন-প্র্যাকটিসিং অ্যালাউন্স দেয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যাঁরা নন-প্র্যাকটিসিং অ্যালাউন্স (এনপিএ) নেন না, তাঁদের ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখার অধিকার রয়েছে। তবে সেই প্র্যাকটিস অবশ্যই সরকারি ডিউটি আওয়ার্সের বাইরে করতে হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথায়, “ডিউটি আওয়ার্সের মধ্যে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করা খুবই দৃষ্টিকটূ। সরকারি দায়িত্ব শেষ করার পরেই ব্যক্তিগত প্র্যাকটিস করুন।” সরকারি হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, রোগী পরিষেবা আরও শক্তিশালী করা এবং মেডিক্যাল কলেজগুলিতে পড়ুয়াদের নিয়মিত পাঠদানের স্বার্থেই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    প্রসঙ্গত, বিগত সরকারের আমলে, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসকদের নিয়ম বহির্ভূত প্রাইভেট প্র‍্যাকটিসের অভিযোগ উঠেছিল। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় রবিবার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে জানিয়েছেন, এই অভ্যাস এখনও বন্ধ হয়নি। তাঁর বক্তব্য, “রাজ্যের ২৬ টা মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপালদের অভিযোগ, টিচাররা কেউ থাকেন না।” কেন নেই? অধ্যক্ষদের অভিযোগ , দিনের সিংহভাগ সময় পাশের নার্সিংহোমটায় ডিউটি করেন প্রফেসররা। রোগীরা বলেন, প্রফেসরদের দেখাতে হলে আগে আমরা নার্সিংহোমে যাই। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, “কিছু ডাক্তার নিজেদের নার্সিংহোমে নোঙ্গর করে রেখে দিয়েছেন। সরকারি হাসপাতালের রোগীদের তিনি সেখানে দেখেন। এটা করবেন না।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)