• আর মুখ নন মমতা, মুখপাত্র শান্তনু-সন্দীপনরা কী বলবেন?
    আজকাল | ১৩ জুলাই ২০২৬
  • রিয়া পাত্র

    আগে বলতেন, তাঁরা মমতা ব্যানার্জির সৈনিক। আগে বলতেন, যা কিছু বার্তা ছিল মমতার। দলের মুখপাত্ররা, সাধারণ মানুষের সামনে, সংবাদ মাধ্যমের সমানে বলতেন দলের কথা। তবে তৃণমূলের এখন অবস্থা ছন্নছাড়া। রক্তক্ষরণের পর্যায় পেরোচ্ছে ঘর গোছাতে গোছাতে। বেশিরভাগ ভিড়েছেন ঋতব্রত শিবিরে। কারণ, মিলেছে অভিযোগ আর অভিমানের মূল কথা। অন্যদিকে, গুটিকয়েক রইলেন যাঁরা, তাঁদের নিয়ে সমীকরণ সামলাতে চাইছেন মমতা। এই পরিস্থিতিতে, ঋতব্রত শিবির, যাঁদের আসল তৃণমূল বলে উল্লেখ করা হয়েছে আদালতের রায়ে, তারা, আটজন মুখপাত্রপকে বেছে নিয়েছে, তাদের কথা, সকলের সামনে তুলে আনার জন্য। ঘটনাচক্রে, এঁদের  অনেকেই আবার অবিভক্ত তৃণমূলের কথাও বলেছেন। এবার কী বলবেন? কী কথা রইল বলার? কী বলছেন শান্তনু-সন্দীপন?

    শান্তনু সেন। তৃণমূলের 'পকেট-লবির' রাজনীতিতে তিনি বেশিরভাগ সময়টাই অভিষেক ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন বলে বহুবার আলোচিত হয়েছে। আবার বহুবার শান্তনু প্রসঙ্গ উঠতেই, উঠেছে নির্মল প্রসঙ্গ। সেসব ক্যামাকস্ট্রিট-কালীঘাটের পালা চুকেছে যদিও। শান্তনু সেনকে দলের কথা বলার দায়িত্ব হয়েছিল। আরজি কর কাণ্ডের সময়, তাঁর দায়িত্ব জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলে, সেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আবার ফিরিয়ে দেওয়াও হয়। ততদিনে দলের ভঙ্গুর  অবস্থা থেকে পর্দা উঠছে ক্রমশ। এতদিন মমতা-শিবিরের কথা বলেছেন শান্তনু। এবার কী বলবেন? শান্তনু সেন বলছেন, 'আমার ইস্যু অনেকের থেকে আলাদা। আমি ৪ মে'র পর প্রতিবাদ করছি এমন নয়। আমি রাজ্যসভার সাংসদ, দলের মুখপাত্র থাকার সময়েও প্রতিবাদ করেছি। আরজি করের পাহারা প্রমাণ আর্থিক দুর্নীতি দেখেও প্রতিবাদ করেছি, অভয়ার বিচারের দাবিতে আওয়াজ তুলেছি। আমাকে তৎকালীন দল সাসপেন্ড করেছিল। আমার স্ত্রী, কাউন্সিলর ছিলেন, তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, আমার মেয়ে তখন আরজি করে পাঠরতা, তাকেও সবরকম মানসিক নির্যাতন করা হয়। আমার প্রতিবাদ অনেক আগের।' একইসঙ্গে শান্তনু বলছেন, 'এই নতুন সরকার কতটা কাজ করতে পারে, এখন থেকেই আমরাতার আভাস পাচ্ছি। এই সরকারকে সময় দেওয়া উচিৎ। সেই জায়গায় আমরা সরকারের ভাল কাজে সমর্থন করব। সরকার যদি কোনও জায়গায় জনবিরোধী সিদ্ধনাত নিচ্ছে বলে মনে হয় সেখানে গঠনমূলক বিরোধিতা করব। সেতাই তো প্রকৃত বিরোধী পক্ষের বলার কথা।'

    সন্দীপন সাহা। ঋতব্রতর হাত ধরে 'জাল-সই' কাণ্ডে বিধানসভায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তারপর দল থেকে বহিষ্কার, এবং পৃথক শিবিরে ভাগ। বাংলার রাজনীতিতে স্বর্ণকমল সাহার ছেলের পরিচয়ে পরিচিত ছিলেন ঠিকই, এখন একসঙ্গে 'আসল তৃণমূল'-এর একাধিক গুরুদায়িত্ব তাঁর কাঁধে। এত দায়িত্ব সামলে কতটা সময় পাবেন কথা বলার? বললেও বা কী বলবেন? সন্দীপন বলছেন  বলার কথা অনেক। তৃণমূলের ভাঙন পর্বের সূচনা আসলে কেন? কেন বেশিরভাগ নেতা তাঁদের হাত ধরলেন? কীই বা তাঁরা এসে বলেছিলেন সন্দীপন-ঋতব্রতর কাছে? তিনি বলবেন সেসব কথাও। অর্থাৎ তাঁদের গায়ে যে দল ভাঙানোর দাগ লাগানো হয়েছে বলে অভিযোগ, তা খন্ডাবেন কথা দিয়েই। একইসঙ্গে বলবেন, 'এই সিদ্ধান্তের পর, কীভাবে দল চালানোর কথা ভাবছেন তাঁরা, তাও। সন্দীপন বলছেন, 'তৃণমূল কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস হয়েছিল, কারণ একটা নীতি ছিল, সেটা সকলে সমর্থন করতেন। সেটাতো নেই আর। কর্পোরেট কালচার, অভিষেক-আইপ্যাকের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত, এভাবে দল চলে না। এজেন্সি যদি নেতাদের কাজের উপর ছড়ি ঘোরাতে শুরু করে, তাহলে চলবে কীভাবে?'  

    নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে, আট মুখপাত্র কথা বলবেন 'আসল' তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে। কী বলবেন? বিরোধী হিসেবে ঝাঁঝ বাড়াবে কতটা? কতটাই বা নমনীয় হবে সরকার পক্ষের প্রতি? নজর সেদিকেই।

     
  • Link to this news (আজকাল)