জেলায় জেলায় অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বিক্ষোভ। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ পেলেও অনেক মহিলার ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’য় আবেদন বাতিল হয়েছে বলে দাবি অনেক আবেদনকারী। বিষয়টি নিয়ে নতুন সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আওয়াজ তুলতে শুরু করেছে বিরোধীরা। রবিবার পূর্ব মেদিনীপুর থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিলেন, সমস্ত যোগ্য মহিলারাই অন্নপূর্ণা যোজনায় আর্থিক সহায়তা পাবেন। তবে একটু সময় লাগবে।
রবিবার মেচেদায় একটি হোটেলে দলীয় কর্মীদের নিয়ে বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই বৈঠকেই শুভেন্দু বলেন, ‘আমরা মাত্র দু’মাস ক্ষমতায় এসেছি। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা মতো সরকারি পরিষেবা চালু করেছি। তার মধ্যে অন্যতম অন্নপূর্ণা যোজনা। সেই প্রকল্পের পরিষেবা ইতিমধ্যে রাজ্যের মহিলারা পেয়েছেন। এত বড় পরিষেবা করার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা হচ্ছে। তাই বলে গেল গেল রব তোলার কিছু নেই। আমরা নিয়ম মেনেই সমস্ত প্রাপকদের হাতে অন্নপূর্ণা যোজনা টাকা তুলে দেবো।’
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে বলেছেন, এখনও অনেকে পরিষেবা থেকে বঞ্চিত। তাঁদের বলি, আমরা ইতিমধ্যে পরিষেবার টাকা ছেড়েছি। কিছু ত্রুটির কারণে অনেকের কাছে তা পৌঁছয়নি।… আগের সরকার হলে ঢাকঢোল পিটিয়ে জয়ধ্বনি হতো, এখন তাঁরা কোথায় গেল? সরকারি পরিষেবায় কোনও ভেদাভেদ করা হবে না।’
অন্য দিকে, আগামী ১৬ অগস্ট রাজ্য সরকার ‘আয়ুষ্মান দিবস’ হিসেবে পালন করবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। উল্লেখ্য, এই দিনটিতে গত সরকার ‘খেলা হবে’ দিবস হিসেবে পালন করা হবে।
এ দিনের দলীয় বৈঠকে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন ও হলদিয়া পুরসভার নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়। শুভেন্দু বলেন, ‘পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় আগামী যে কোনও নির্বাচনে ৭০ শতাংশের বেশি ভোট বিজেপিতে পড়বে। এখন ৫৬ শতাংশ ভোট পড়ছে। আগামী দিনে তা ৭০ শতাংশ হয়ে দাঁড়াবে। আগামিদিনে যে কোনও নির্বাচনে বিরোধীরা প্রার্থী দেওয়ার লোক খুঁজে পাবে না।’
এ দিন তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির জনপ্রতিনিধি, মণ্ডল কমিটির প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তমলুক লোকসভার সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, মন্ত্রী হরেকৃষ্ণ বেরা, বিধায়ক দিব্যেন্দু অধিকারী, অশোক দিন্দা-সহ আরও অনেকে।