• ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ই আসল তৃণমূল, আদালতের রায় দেখিয়ে দাবি ঋতব্রতের
    এই সময় | ১২ জুলাই ২০২৬
  • ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ই আসল তৃণমূল! এ বার আদালতের নথি দেখিয়ে এ কথা দাবি করলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে আদালতের সেই নথির অংশ পড়ে শুনিয়ে বিরোধী দলনেতার দাবি, ২০২৬ সালের ২২ জুন বিশেষ অধিবেশনে যে জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি (ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি) গঠিত হয়েছিল, তারা ‘বৈধ’ সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস।

    ঋতব্রত জানান, কিছু লোক দলের পার্টি অফিস দখলের চেষ্টা করায় এবং অশান্তি বাধানোয় তৃণমূলেরই কিছু কর্মী আলিপুর আদালতে একটি মামলা করেছিলেন। আদালত সম্প্রতি সেই মামলায় রায় দিয়েছে। ঋতব্রতের বক্তব্য, আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, যে অধিবেশনে অরূপ রায়কে দলের চেয়ারপার্সন করা হয়েছে (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে), সেই তৃণমূলই আসল তৃণমূল। তার বাইরে অন্য কেউ যদি নিজেদের তৃণমূল বলে দাবি করে দলের কোনও পার্টি অফিস দখল করার চেষ্টা করেন, তা বেআইনি। যদিও বিষয়টি ভাবিত নয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির। তাদের বক্তব্য, মেট্রোপলিটনের অফিস ‘দখল’ ঋতব্রত-শিবিরই আইন ভেঙেছে। তাদের বিরুদ্ধে কেন আইনি পদক্ষেপ করা হবে, সেই প্রশ্নও তুলেছে তারা।

    মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপকে মুখ করে তৃণমূলের অন্দরে যে আলাদা গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে, সেই গোষ্ঠী আপাতত বঙ্গরাজনীতিতে ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ অধিক প্রচলিত। ২২ জুন নিউ টাউনের একটি পাঁচতারা হোটেলে তারা বৈঠক করে মমতাকে সরিয়ে দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে অরূপকে নিয়োগ করে। ঋতব্রত, জাভেদ খান এবং সন্দীপন সাহা হন সাধারণ সম্পাদক এবং আখরুজ্জামান আনসারি কোষাধ্যক্ষ। সব মিলিয়ে ৩০ সদস্যের ওয়ার্কিং কমিটিও গঠন করা হয়। এই তালিকা জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিয়ে নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করেছেন ঋতব্রতেরা। পাল্টা চিঠি দিয়েছে মমতার শিবির, যা বর্তমানে ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ নামে খ্যাত। সেই মামলা এখন কমিশনে বিচারাধীন। তারা মাঝে ঋতব্রতদের বিরুদ্ধে দল বেঁধে গিয়ে মেট্রোপলিটনে অস্থায়ী তৃণমূল ভবনের দখল নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, দলের উপর নিজেদের দাবি আরও পাকাপোক্ত করতে রাজ্য ও জেলা কমিটিও গড়ে ফেলেছে তারা।

    এমতাবস্থায় আলিপুর আদালতের রায়ের প্রতিলিপি দেখিয়ে ঋতব্রত জানান, এ বার আদালতই তাঁদের দাবিকে সিলমোহর দিয়েছে। তাঁর দাবি, ‘নিয়মনীতি মেনে পার্টির ফান্ড, নাম – এ সব আমরা ছাড়া অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারবে না। যারা পার্টি অফিসগুলোয় জোর করে ঢুকতে যাবেন, আমরা তাঁদের বিরুদ্ধে আইনত পদক্ষেপ করব। মগের মুলুক চলবে না।’ বিরোধী দলনেতার সংযোজন, ‘কেউ আসল-নকল বিতর্ক তৈরি করতে চাইলে বলব, আদালতের এই রায় দেখে নিন। এই কমিটি বাদে কেউ নিজেদের তৃণমূল বলে দাবি করলে সেটা অবৈধ। এই কমিটি বাদে আর কেউ যদি তাদের নিজেদের কমিটি মেম্বার বলে দাবি করে তা হলে তাদের এ সব থেকে দূরে থাকতে বলা হচ্ছে।’

    এ নিয়ে মমতা-পন্থী তৃণমূলের মুখপাত্র উপাসনা চৌধুরী বলেন, ‘সে দিন সন্ধে ৬টার পরে তৃণমূল ভবনে (মেট্রোপলিটনের কার্যালয়) যাঁরা তালা মেরে এসেছিলেন, তাঁরা কি আইন মেনে ওটা করেছিল? আমরা কিন্তু ওই তালার উপর আর একটা তালা মারতেই পারতাম। আমরা প্রথম থেকে একটা কথা বলে এসেছি, ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত আমাদের একটা চুক্তি রয়েছে। সেটা যারা অমান্য করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কি কোনও আইনি পদক্ষেপ হবে না? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে দাঁড়ায়, সেখান থেকেই লাইন শুরু হয়।’

  • Link to this news (এই সময়)