প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা কেন্দ্র-রাজ্যের অন্য কোনও মন্ত্রীরা ৩০ দিন হেফাজতে থাকলে তাঁদের অপসারণ করা যাবে, এমন প্রস্তাবে সায় দিল সংসদীয় যৌথ কমিটি। উল্টে অপসারণের পরিবর্তে সাসপেনশনের প্রস্তাব দিয়েছে তারা।
২০২৫ সালের ২০ অগস্ট সংসদের বাদল অধিবেশনের শেষ পর্বে মোদী সরকার একটি সংবিধান সংশোধনী বিল-সহ তিনটি বিল পেশ করেছিল। পাঁচ বছরের বেশি কারাদণ্ড হতে পারে, এমন-অপরাধে গ্রেপ্তার হয়ে যদি প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা কেন্দ্র বা রাজ্যের অন্য মন্ত্রীরা টানা ৩০ দিন হেফাজতে থাকেন, তা হলে তাঁদের পদ চলে যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে ওই বিলগুলিতে। সেই সময়ে বিলগুলির বিরোধিতা করেছিল বিরোধীরা। তাদের বক্তব্য ছিল, বিরোধী শাসিত রাজ্য সরকারকে ইচ্ছে মতো অস্থির করে তুলতে এই বিল কাজে লাগানো হবে। পরে বিরোধীদের দাবিকে মান্যতা দিয়েই বিলটি যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। ঘটনাচক্রে, এই যৌথ সংসদীয় কমিটির বর্তমান চেয়ারপার্সন ওড়িশার ভুবনেশ্বরের বিজেপি সাংসদ অপরাজিতা সারঙ্গি।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কমিটি জানিয়েছে, ‘অপসারণ’ বা ‘মন্ত্রিত্ব চলে যাওয়া’র অর্থ ‘কলঙ্কিত’ হওয়া। তার চেয়ে সরকারি চাকুরিজীবীদের মতো ‘সাসপেনশন’ শব্দ ব্যবহার করা অনেক বেশি যুক্তিযুক্ত। এর ফলে পদ খোয়ালেও, তা সাময়িক হবে এবং আদালতের চূড়ান্ত রায় আসার আগে অপরাধী বলে ধরে নেওয়া হবে না। অভিযুক্ত মন্ত্রীকে যদি আদালত বেকসুর খালাস করে, বা তিনি মামলা থেকে মুক্তি পান, তবে তাঁর সাসপেনশন আপনাআপনিই উঠে যাবে। তিনি আবার পদে ফিরতে পারবেন। এমনকি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি বিচারপ্রক্রিয়ার সন্তোষজনক অগ্রগতি না হয়, তা হলেও এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে।
কমিটি স্পষ্ট করেছে, যে সমস্ত অপরাধের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৫ বছর বা তার বেশি মেয়াদের কারাদণ্ড হতে পারে, সেগুলিকেই ‘গুরুতর অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করা হবে। এ জন্য একটি আলাদা তালিকা তৈরি করার কথাও বলা হয়েছে। সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে যাতে দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করা যায়, তার জন্য ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট বা দ্রুত বিচার আদালতের ব্যবস্থা করারও সুপারিশ করেছে কমিটি। আগামী সপ্তাহেই যৌথ সংসদীয় কমিটির এই চূড়ান্ত রিপোর্ট সংসদে পেশ হতে পারে।