'অভিষেককে রাজনীতি থেকে সরালেই মমতার পাশে ফিরবে সবাই!'ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়ে বিস্ফোরক রবীন্দ্রনাথ
News18 বাংলা | ১২ জুলাই ২০২৬
ঋতব্রত শিবিরের কোচবিহার জেলা সভাপতি হিসাবে নাম ঘোষণা হতেই বিস্ফোরক প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন উত্তরবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম ভরসার মুখ ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ৷ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরে যোগ দেওয়ার পর সেই রবীন্দ্রনাথেরই দাবি, ‘গত কয়েকবছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে দলের ক্ষমতা ছিল না। ক্ষমতা অন্য কোথাও কুক্ষিগত হয়েছিল। জেলায় জেলায় যাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তারা লুটেপুটে খেয়েছে।’
একই সঙ্গে তাঁর দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিলেই ফের সবাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়াবেন৷ ঋতব্রত শিবিরের জেলাসভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পরেও রবীন্দ্রনাথ এ দিন দাবি করেছেন, যতদিন সূর্য, চন্দ্র, পৃথিবী থাকবে, ততদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার নেত্রী থাকবেন। উনি একজন বড় ফাইটার৷ অভিষেককে রাজনীতি থেকে সরিয়ে রাখা উচিত। তাহলে সবাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়াবে। ওর জন্যই দলের আজ এই অবস্থা। বিস্ফোরক রবীন্দ্রনাথ ঘোষ।
প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দরনাথের আরও দাবি, ‘ঋতব্রত তৃণমূল বলে আলাদা কিছু নেই৷ পুরোটাই তৃণমূল কংগ্রেস৷ এই দলেই আগেও ছিলাম, এখনও আছি, ভবিষ্যতেও থাকব৷ বিশেষত যে দিকে সিংহভাগ নেতা, কর্মী, বিধায়করা থাকবেন, আমাদেরও তো সেদিকেই থাকতে হবে৷ দিদির সঙ্গে সারাজীবন লড়াই করেছি৷ এখনও দিদিকে সম্মান করি, শ্রদ্ধা করি৷ কিন্তু গত কয়েক বছরে কি দিদির হাতে আর ক্ষমতা ছিল? যাদের হাতে ভোটের সময় জেলায় জেলায় দায়িত্ব দিয়েছিল তারা তো ভোটের পর পালিয়ে গিয়েছে৷ অথচ সাধারণ কর্মীরা অত্যাচারিত হচ্ছে৷ তাঁদের পাশে থাকতেই আমার এই সিদ্ধান্ত৷’
ঋতব্রতদের পক্ষেই সমর্থন জানিয়ে রবীন্দ্রনাথ আরও বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে তো মানতেই হবে৷ উত্তরবঙ্গের সব নেতা, বিধায়করা এক জায়গায় জড়ো হয়েছেন৷ আমি তো অন্যরকম কিছু ভাবতে পারব না৷ এই প্রথম উত্তরবঙ্গ থেকে রাজ্য তৃণমূলের সভাপতি বাছা হয়েছে, যা এতদিন ভাবা যেত না৷
আইপ্যাকের ভূমিকাকেও রে ‘নেতা হতে গেলে অনেক কিছু ত্যাগ করতে হয়৷ আমার মনে হয় দিদি সেটা পারেনি৷ অভিষেকের অভিজ্ঞতা কম৷ লড়াই, আন্দোলন করেনি৷ আইপ্যাকের ছোট ছোট বাচ্চা, ছেলেরা ভিনরাজ্য থেকে এসে সিনিয়র লিডারদের নির্দেশ দিচ্ছে৷ সেই নির্দেশ মানতে গিয়ে ভোটে দলের ভরাডুব হল৷ ২০১১, ২০১৬ সালে তো আইপ্যাক-কে লাগেনি৷’
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে রবীন্দ্রনাথ বলন, ‘এখন সারা রাজ্যের যা মতামত তাতে কিছু দিনের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কিছু দিনের জনম্য রাজনীতির আঙিনা থেকে সরিয়ে দেওয়া উচিত, সাইড করে দেওয়া উচিত৷ তাহলেই ওর খামখেয়ালিপানা, ভুল সিদ্ধান্তের জন্য দলের এই বিপর্যয়৷ প্রায় ৮০ জন বিধায়ক, মন্ত্রীদের বিধানসভা ভোটে উনি টিকিট দেননি৷ অনভিজ্ঞ লোকদের সামনের সারিতে নিয়ে এসেছেন৷ এটা কখনও হয়?’