পাকা কাঁঠালের গন্ধ। গভীর রাতে প্রাচীর ভেঙে সেই গাছের নীচে হাজির দুই বুনো হাতি। গাছের ডাল ভেঙে কাঁঠাল পেড়ে খেতে শুরু করল তারা। আতঙ্কে দরজা-জানালা বন্ধ করে ঘরবন্দি হয়ে পড়েন গঙ্গাজলঘাটি হাসপাতাল কলোনির বাসিন্দারা। শুক্রবার রাত প্রায় সাড়ে ১২টা নাগাদ হাতি দু’টি প্রথমে গঙ্গাজলঘাটি বাজার এলাকায় ঘোরাফেরা শুরু করে। পরে হাসপাতাল কলোনিতে ঢুকে একটি বাড়ির পাঁচিল ভেঙে উঠোনে থাকা কাঁঠালগাছের কাছে পৌঁছে যায়।
খবর পেয়ে বনদপ্তরের কর্মীরা পৌঁছে আলো ও শব্দের সাহায্যে হাতি দু’টিকে জঙ্গলের দিকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। গত কয়েক দিন ধরেই দুটি বুনো হাতির অবাধ বিচরণে আতঙ্ক ছড়িয়েছে গঙ্গাজলঘাটিতে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, “এখন সন্ধ্যা নামলেই ভয় শুরু হয়। ছোট ছেলেমেয়েদের বাইরে বেরোতে দিচ্ছি না। সারারাত আতঙ্কে কাটছে। হাতি দু’টি প্রায়ই বাজারের পাশ দিয়ে যাতায়াত করছে। জাতীয় সড়ক পার হওয়ার সময়ও দেখা যাচ্ছে। বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।”
বাঁকুড়ার পাশাপাশি ঝাড়গ্রামেও হাতির তাণ্ডবে অতিষ্ঠ মানুষ। হাতি তাড়ানোর অভিযানে গিয়ে দাঁতাল হাতির তাণ্ডবের মুখে পড়ে বন দপ্তরের ‘ঐরাবত’ গাড়ি। মুহূর্তের মধ্যে শুঁড় ও দাঁত দিয়ে গাড়িতে একের পর এক মারতে শুরু করে ক্ষিপ্ত হাতি। উলটে দেওয়া হয় গাড়িটিও! বনকর্মীদের তৎপরতায় অল্পের জন্য বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হল। শুক্রবার গভীর রাতে ঝাড়গ্রাম জেলার মানিকপাড়া রেঞ্জের বালিভাসা বিটের বড়াশুলি জঙ্গলের ক্যানেলপাড় এলাকায় এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এবার বাঁকুড়ায় কাঁঠালের গন্ধে পাগল হয়ে এলাকায় তাণ্ডব চালাল হাতি।